নিরাপদ সড়কের দাবিতে এক হয়েছে বাংলাদেশর ক্রিয়াশীল চলচ্চিত্র সংসদসমূহ এবং বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকর্মীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শামসুন নাহার হল সংলগ্ন সড়কদ্বীপে স্থাপিত তারেক মাসুদ- মিশুক মুনীর স্মরণ স্থাপনার সামনে ৪ আগস্ট বিকেলে তারা প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনের আয়োজন করে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন চলচ্চিত্রকর্মীরা (ছবি-সংগৃহিত)
ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক বেলায়াত হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন, চলচ্চিত্রকার ক্যাথরিন মাসুদ, চলচ্চিত্র গবেষক ফাহমিদুল হক এবং চলচ্চিত্রকার প্রসূন রহমান।
ব্যানার-ফেস্টুন-প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়ায় চলচ্চিত্রকর্মীরা। এসময় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে লেখা দেখা যায়, ‘বাংলাদেশের সড়ক-মহাসড়কে যা ঘটছে সেসব দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড। সারাদেশের সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করুন, গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনুন।’
বিকেল ৫টায় মৌন মানববন্ধনের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। এরপর সন্ধ্যায় শুরু হয় বক্তৃতা। এসময় বক্তারা বলেন,
“সড়কে নৈরাজ্য চলছে বহুকাল ধরে। বারবার আমরা পিষ্ট হচ্ছি। আমাদের স্বপ্ন, আমাদের জীবন থমকে যাচ্ছে সড়কের মড়কে। এই পরিস্থিতি মানুষের সৃষ্টি। এসব মানুষ বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা, আইন, বাংলাদেশের সড়ক ব্যবস্থাপনার সব সিস্টেমকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে বারবার। হত্যাকারীদের পিশাচের মতো দাঁতাল হাসি আমাদের পথে নামতে বাধ্য করছে, আমাদের শিশু-কিশোরদের পথে নামতে বাধ্য করেছে। মানুষের জীবন সবচেয়ে মূল্যবান, সেটি সড়কের কালো পিচের পিষ্ট হওয়ার জন্য নয়।”

নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন চলচ্চিত্রকর্মীরা (ছবি-সংগৃহিত)
প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন,
“গড়ি চালনার প্রশিক্ষণবিহীন চালক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি- লাইসেন্সবিহীন গাড়ি ও মাদকাসক্ত চালক- হেল্পারদের পথে ছেড়ে দিয়ে রাষ্ট্র এই সব হত্যাকে ‘দূর্ঘটনা’ বলতে পারে না।”
“বাংলাদেশের সড়ক পথে যা ঘটছে তা হত্যাকাণ্ড; এগুলোকে দূর্ঘটনা বলে ছাড় দেয়ার কিছু নেই।”
সমাবেশ ও মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার আবু সাইয়ীদ, চলচ্চিত্রকার মসিহউদ্দিন শাকের, শিল্পী সুলেখা চৌধুরী, চলচ্চিত্রকার জাঈদ আজিজ, চলচ্চিত্র সংসদকর্মী ডা. জহিরুল ইসলাম কচি, চলচ্চিত্র সংসদকর্মী ও আলোকচিত্রশিল্পী মীর শামসুল আলম বাবু, শিল্পী ও অ্যাকটিভিস্ট আহমেদ মনিরুদ্দিন তপু, চলচ্চিত্র গবেষক ও লেখক বিধান রিবেরু, চলচ্চিত্রকার হুমায়রা বিলকিস, চলচ্চিত্রকার পলাশ রসূল, চলচ্চিত্রকার তাসমিয়াহ আফরিন মৌ, চলচ্চিত্রকার ও বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মৃদুল মামুন, চলচ্চিত্র সংসদকর্মী রোদেলা নিরুপমা, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চলচ্চিত্র সংসদকর্মী হাবিবুর রহমান, চলচ্চিত্রকার খন্দকার সুমন, চলচ্চিত্রকার ও চলচ্চিত্র সংসদকর্মী অদ্রি হৃদয়েশ, চলচ্চিত্রকর্মী আবির শ্রেষ্ঠ, চলচ্চিত্র সম্পাদক চৈতালী সমাদ্দর, চলচ্চিত্রকার অতনু পাটোয়ারী, চলচ্চিত্র সংসদকর্মী ও আলোকচিত্রশিল্পী সাদেক হোসেন সনি, ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম আপন, চলচ্চিত্রকর্মী রিপন কুমার দাশ, চলচ্চিত্র সংসদকর্মী ও স্থপতি সাউদা আক্তার, চলচ্চিত্র সংসদকর্মী রাসেল আহমেদ রনি, চলচ্চিত্রগ্রাহক বিদ্রোহী দীপন, চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ন কবির শুভ, চলচ্চিত্রকর্মী সঙ্গীতা অপরাজিতাসহ অনেক তরুণ চলচ্চিত্রকার এবং চলচ্চিত্রকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
