আজও হল না বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটন । সাগর লোহানী

Comments

১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার বিচারকাজ শেষ করে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারীতে রায় কার্যকর করা হলেও সম্পূর্ণ রায় কার্যকর করা সম্ভব হয়নি কেননা মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের অধিকাংশই এখনো রয়ে গেছে দেশের বাইরে।

সবচেয়ে দুর্ভাগ্য হচ্ছে রায় প্রকাশের এতদিন পরেও এ হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত বেসামরিক কোন ব্যক্তির বিচার কাজ করা যায়নি।

সেদিন সামরিক বাহিনীর ঘাতকেরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ ফজিলাতুননেছা, শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, শেখ নাসের, এসবি অফিসার সিদ্দিকুর রহমান, কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ, সেনা সদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক, শেখ ফজলুল হক মণি,  আরজু মণি, আবদুর রব সেরনিয়াবাত, বেবী সেরনিয়াবাত, আরিফ সেরনিয়াবাত, সুকান্ত বাবু, সজীব সেরনিয়াবাত, বেন্টু খান, মোট ২৬ জনকে হত্যা করে।

এটি কি নিছক একটি হত্যাকাণ্ড? এর পেছনে কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না কি? হত্যা মামলার রায়েও যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কথা সংক্ষিপ্ত আকারে উল্লেখ রয়েছে তা আজও উদ্ঘাটিত হল না কেন?

শুধু কি তাই? হত্যা মামলার রায় কি শতভাগ বস্তুনিষ্ঠ ছিল?

শুধুমাত্র একটি ঘটনা পর্যালোচনা করলেই এই দিকটির সত্যাসত্য প্রকাশ পায়। ফার্স্ট ফিল্ড আর্টিলারীর সুবেদার মেজর আব্দুল ওয়াহাব জোয়ার্দার ১৫ আগষ্ট ভোর ৪টার দিকে ৩২ নম্বরের বাড়ীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত ইউনিটের সৈনিকদের কাছ থেকে তাদের বন্দুকের সমস্ত গুলি নিয়ে যান। ফলে আক্রমণের প্রত্যুত্তরে নিরাপত্তা বাহিনী একটি গুলিও ছুঁড়তে পারেনি অর্থাৎ এই কাজটির ফলে বঙ্গবন্ধুর বাড়ীর নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনী হামলা কোন রকম প্রতিরোধের সুযোগই পায়নি। ৩২ নম্বরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙ্গে দেবার ষড়যন্ত্রের ক্রীড়নক ছিল ফার্স্ট ফিল্ড আর্টিলারীর সুবেদার মেজর আব্দুল ওয়াহাব জোয়ার্দার।

সেই ফার্স্ট ফিল্ড আর্টিলারীর সুবেদার মেজর আব্দুল ওয়াহাব জোয়ার্দারকে ১৫ আগষ্ট হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিনের মধ্যেই র‌্যাংক ব্যাজ পড়িয়ে লেফটেন্যান্ট হিসেবে ঘোষণা করেন কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান।

হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্র প্রস্তুত করলেন যে ব্যক্তি, হত্যা মামলা থেকে সেই সুবেদার মেজর (লেফটেনেন্ট) আব্দুল ওয়াহাব জোয়ার্দার বেকসুর খালাস পেয়ে গেলেন।

দুই দশকেরও পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু করে এবং বিচারের চূড়ান্ত রায়ে ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত এই ১২ জনের সবাই তৎকালীন মধ্যম সারির সেনা কর্মকর্তা যারা সরাসরি হত্যাকাণ্ড পরিচালনায় অংশ নিয়েছিল।

২০১০ সালের ২৮ শে জানুয়ারী ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। তাছাড়া যারা দণ্ডপ্রাপ্ত তাদের মধ্যে ৫ জন, খন্দকার আবদুর রশিদ, এ এম রাশেদ চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিম, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন খান, এখনো যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। অপর একজন দন্ডপ্রাপ্ত আজিজ পাশা প্রবাসেই মারা গেছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার হল অথচ বঙ্গবন্ধু হত্যা ষড়যন্ত্রের কোন বিচার হল না, হল না হত্যা ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটনে কোন তদন্ত।

শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদের নেতৃত্বে যে সরকার গঠিত হয় সেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রীসভার এবং বাকশালের অনেকেই যোগ দিয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর লাশ পড়ে আছে ৩২ নম্বরের সিঁড়িতে, তাঁর রাজনৈতিক সহচর মোশতাক রেডিওতে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করলেন। খুনিদেরকে ‘সূর্য সন্তান’ নামে অভিহিত করলেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তাঁর মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য যোগ দেয় মোশতাকের মন্ত্রিসভায়। বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভায় থাকা ২১ জন সদস্য যোগ দিয়েছিলেন খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রিসভায়। মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতি হয়ে উপরাষ্ট্রপতি করে মোহাম্মদউল্লাহকে। জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীকে রাষ্ট্রপতির প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা হন। মাহবুব আলম চাষী হয়ে যান মুখ্য সচিব।

মোশতাক মন্ত্রীসভা:

পররাষ্ট্র মন্ত্রী: বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
আইনমন্ত্রী: মনোরঞ্জন ধর
পরিকল্পনা মন্ত্রী: অধ্যাপক ইউসুফ আলী
অর্থমন্ত্রী: আজিজুর রহমান মল্লিক
শিক্ষামন্ত্রী: মোজাফফর আহমদ চৌধুরী
স্বাস্থ্যমন্ত্রী: আবদুল মান্নান
কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী: আবদুল মোমিন
এলজিআরডি মন্ত্রী: ফণিভূষণ মজুমদার
নৌপরিবহণ মন্ত্রী: আসাদুজ্জামান খান
গণপূর্ত ও গৃহায়ন মন্ত্রী: সোহরাব হোসেন

প্রতিমন্ত্রী:

ডাক ও টেলিযোগাযোগ: কে এম ওবায়দুর রহমান
ভূমি ও বিমান: শাহ মোয়াজ্জেম চৌধুরী
রেল ও যোগাযোগ: নুরুল ইসলাম মঞ্জুর
তথ্য: তাহেরউদ্দিন ঠাকুর
শিল্প: নুরুল ইসলাম চৌধুরী
ত্রাণ ও পুনর্বাসন: ক্ষিতিশ চন্দ্র মণ্ডল
পশু ও মৎস্য: রিয়াজউদ্দিন আহমদ ভোলা মিয়া
যোগাযোগ: সৈয়দ আলতাফ হোসেন

এছাড়া বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মালেক উকিল মোশতাকের সংসদে স্পিকার হিসেবে শপথ নেন। মোশতাক সামরিক শাসন কায়েম করলেও জাতীয় সংসদ বহাল ছিল। স্পিকার ছিলেন আবদুল মালেক উকিল। স্পিকার হিসেবে বিদেশে স্পিকারদের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও যোগ দেন উকিল। বঙ্গবন্ধু সরকারের আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর মোশতাকেরও আইনমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং কুখ্যাত ইনডেমনিটি নামক বিলটির রচনা করেন।

খন্দকার মোশতাক সরকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের পথ উন্মুক্ত করে দেন মোশতাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।

বঙ্গবন্ধু সরকারের আরেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদউল্লাহ যার স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে প্রবর্তন হয়েছিল বাকশাল ব্যবস্থা। বাকশাল ব্যবস্থার অধীনে বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি হলেন মোহাম্মদউল্লাহ মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। ১৫ আগস্টের পর মোশতাকের উপরাষ্ট্রপতি হন সেই মোহাম্মদউল্লাহ। পরে বিএনপিতে যোগ দেন মোহাম্মদউল্লাহ। জিয়াউর রহমান হত্যার পর বিচারপতি আবদুস সাত্তার রাষ্ট্রপতি হলে উপরাষ্ট্রপতি করা হয় মোহাম্মদউল্লাহকে। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তৎকালীন সেনাপ্রধান এইচ এম এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন।

মোশতাকের পতনের পর ফণিভূষণ মজুমদার, আবদুল মান্নান, আবদুল মোমিন, সোহরাব হোসেন, অধ্যাপক ইউসুফ আলী, আবদুল মালেক উকিল, আসাদুজ্জামান খান আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। মালেক উকিল আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন শেখ হাসিনা নেতৃত্বে আসার আগ পর্যন্ত। মোশতাকের পরিকল্পনামন্ত্রী অধ্যাপক ইউসুফ আলী পরে যোগ দেন জিয়ার মন্ত্রিসভায়। জিয়ার মৃত্যুর পর এরশাদেরও মন্ত্রী হন তিনি।

জিয়াউর রহমান শুধু যে ইন্ডেমনিটি বিল পাস করান তাই নয়, ১৯৭৬ সালের ২৯ এপ্রিলে জিয়াউর রহমান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব হস্তগত করার ২ মাসের মধ্যেই হত্যাকান্ডে সরাসরি যুক্ত থাকা সামরিক অফিসারদের দেশের বাইরে বিভিন্ন দূতাবাসে নিয়োগ দেন।

এ প্রক্রিয়ায় লে. কর্নেল শরিফুল হক (ডালিম), চীনে প্রথম সচিব; লে. কর্নেল আজিজ পাশা, আর্জেন্টিনায় প্রথম সচিব; মেজর এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, আলজেরিয়ায় প্রথম সচিব; মেজর বজলুল হুদা, পাকিস্তানে দ্বিতীয় সচিব; মেজর শাহরিয়ার রশিদ, ইন্দোনেশিয়ায় দ্বিতীয় সচিব; মেজর রাশেদ চৌধুরী, সৌদি আরবে দ্বিতীয় সচিব; মেজর নূর চৌধুরী, ইরানে দ্বিতীয় সচিব; মেজর শরিফুল হোসেন, কুয়েতে দ্বিতীয় সচিব; কর্নেল কিসমত হাশেম, আবুধাবিতে তৃতীয় সচিব; লে. খায়রুজ্জামান, মিসরে তৃতীয় সচিব; লে. নাজমুল হোসেন, কানাডায় তৃতীয় সচিব; লে. আবদুল মাজেদ, সেনেগালে তৃতীয় সচিব; হিসেবে নিয়োগ পান।

এখানেই শেষ নয় জিয়ার মৃত্যুর পরে  হুসেইন মোহম্মদ এরশাদ এবং পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার সময়ে এদের মধ্যে কেউ কেউ দেশে ফিরে ফ্রিডম পার্টি নামে রাজনৈতিক দল গঠন করে রাজনীতিতে সক্রিয় হন এমনকি সংসদ সদস্যও বনে যান।

এই হত্যাকাণ্ডের যে একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল এবং তৎকালীন রাজনীতিকদের সাথে সংশ্লিষ্টতা ছিল সেটি অবধারিত। সে বিষয়টি বিচারকাজ শেষ হওয়ার পরও অস্পষ্টই রয়ে গেছে।

হত্যাকাণ্ডের দুটো দিক, একটা অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আরেকটি আন্তর্জাতিক রাজনীতি, এর কোনটাই কিন্তু এই বিচারে উঠে আসেনি।

অনেকেই হয়তো চাপের মুখে মোশতাক মন্ত্রীসভায় যোগ দিয়েছিলেন। আড়াই মাসের মোশতাক মন্ত্রীসভায় থাকাকালে অনেকেই বিদেশ সফর করেছেন। ফিরে এসেছেন দেশে, চাপে যোগ দিলে তা করবার কথা কি?

১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগের বাইরে রাজনৈতিকভাবে তরুণদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল। ১৯৭৩ সাল থেকেই সরকার পতনের আন্দোলন করে আসছিল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল বা জাসদ। দলীয়ভাবে জাসদ এই হত্যাকান্ডে জড়িত ছিল তা হয়তো নয় তবে হত্যাকাণ্ডের পরপরই কর্নেল আবু তাহেরের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ হত্যাকাণ্ডের বিচার করলেও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের দিকটি অনেকটাই এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর মত একজন জনপ্রিয় নেতাকে হত্যা করতে সেনাবাহিনীর গুটিকয়েক মধ্যমসারীর অফিসারই কেবল জড়িত ছিল তা মনে করবার কোন কারণ নেই। নতুবা ১৫ আগষ্টে সেনাবাহিনীর অন্যান্য ইউনিট ও সিনিয়র অফিসার এমন কি তৎকালীন তিন বাহিনী প্রধানেরাও এদের প্রতিহত করবার কোন ভূমিকায় দেখা গেল না কেন? গুটিকয় অফিসারই যদি হত্যাকান্ডে যুক্ত থাকবে তবে হত্যাকাণ্ডের পর পুরো সামরিক বাহিনীর বৃহত্তর অংশ চুপ করে বসে থাকল? কেন ঐ ১২/১৪ জন অফিসারকে আটক করা হল না?

হত্যাকাণ্ডে সরাসরি যারা জড়িত তাদের বিচার করা হয়েছে ঠিকই কিন্তু একটি বেসামরিক তদন্ত কমিটি করে এই হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্র ছাড়াও আরো কারা নেপথ্যে ছিল তার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করলে আওয়ামী লীগ সরকার একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে পারত এবং তাতে জাতি উপকৃত হতো।

হত্যা মামলা হলো, তদন্ত হলো, রায় হলো, রায় আংশিক কার্যকরও হলো কিন্তু হত্যা ষড়যন্ত্র মামলা হলো না, তদন্ত হলো না, হত্যা পরিকল্পনার মূল নক্সা প্রকাশ পেলো না। এত বছর ধরে পর্দার আড়ালের হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কুশীলবেরা রয়ে গেলো আড়ালেই।

এ অন্ধকার দূর করবার দায়িত্ব রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত সরকারের। সরকারের উচিত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশন গঠন করে সে সময়ের রাজনীতিক, সে সময়ে যারা সামরিক ও বেসামরিক উচ্চ পদে আসিন ছিলেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক, সামরিক এবং আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন এজেন্সির সংশ্লিষ্টতার নীলনক্সাটি জাতির সামনে উন্মোচিত করা। এর ফলে ১৫ অগাস্টের হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনেক অস্পষ্টতাই দুর হয়ে যাবে যা জাতিকে দেবে আত্মগ্লানি থেকে মুক্তির পথ।

লেখক: সাগর লোহানী, সম্পাদক, বাঙালীয়ানা

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.