অবলীলায় প্রাণবিসর্জনেও আমাদের অনাদরে কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন

Comments

“না, আমি পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলব না।
আমার এক দফা, স্বাধীন বাংলাদেশ চাই।”

সঙ্গে সঙ্গে এক ঝাঁক গুলি বিদীর্ণ করলো লেফটেনেন্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনের দেহ।  গুলিবিদ্ধ হয়ে মেঝেতে পড়ে গিয়েও কমান্ডার মোয়াজ্জেম বললেন,

“স্বাধীন বাংলাদেশ চাই”

“দোতলার জানালার পর্দা সরিয়ে দেখি আমার স্বামী গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছেন। এরপর সেনারা তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করতে বেয়নেট দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতে থাকে। তখন সমস্ত শরীর রক্তাক্ত। দেখলাম তাঁকে চ্যাংদোলা করে ওরা নিয়ে যাচ্ছে। তখনো মাথাটা ঝুলছে। এ দৃশ্য দেখে আমি চিৎকার দিয়ে উঠি।”

স্বামীর শাহাদাতের মুহুর্তটি এভাবেই বর্ণনা করেছেন শহীদ লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনের স্ত্রী কোহিনূর মোয়াজ্জেম হোসেন।

১৯৭১ এর ২৬ মার্চের প্রত্যূষে মোয়াজ্জেমের ৩৬ এলিফেন্ট রোডের বাড়ীতে পাক হানাদারবাহিনী এসে ঢুকে পড়ে এবং মোয়াজ্জেম হোসেনকে খুঁজতে থাকে এক পর্যায়ে তাঁর স্ত্রীকে ডাক দিলে উপরতলা থেকে নেমে এসে মোয়াজ্জেম বলেন, “আমিই কমান্ডার মোয়াজ্জেম”।

তখন পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর কর্নেল তাজ মোয়াজ্জেমকে কয়েকবার বলে, “বোলো, পাকিস্তান জিন্দাবাদ”। লেফটেনেন্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতিবাচক উচ্চারণে শাহাদাত বরণ করেন। অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনার সম্ভবত প্রথম শহীদ বাড়ীতে ঢুকে যাকে সুনির্দিষ্টভাবে যাকে হত্যা করা হয়।

পিরোজপুর জেলার ডুমুরিতলা গ্রামের সরকারী কর্মকর্তা পিতা মোফাজ্জেল আলী এবং মাতা লতিফুননেছা বেগমের ঘরে ১৯৩৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর (১৩৩৯ বঙ্গাব্দের ২ আশ্বিন) জন্ম নেয়া মোয়াজ্জেম হোসেন কে ছিলেন যাঁর মৃত্যুর খবর মুখে শুনে নয় মৃতদেহ দেখে নিশ্চিত হতে চেয়েছিল জল্লাদ টিক্কা খান, যে কারণে তাঁকে হত্যার পর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল গভর্নর হাউজে?

১৯৪৭ সালে কচুয়া হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। এরপর তিনি বাগেরহাট কলেজে আই.এস.সি ক্লাসে ভর্তি হন। কিন্তু প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ার কারণে তাঁর শিক্ষা জীবন ব্যাহত হয়। পরে তিনি বরিশাল ব্রজমোহন কলেজে আই.এসসি ক্লাশে অধ্যয়ন কালে মোয়াজ্জেম হোসেন ১৯৫০ সালে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগ দেন। সে বছরেই তিনি ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনীতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন।

মোয়াজ্জেম হোসেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর মনোনীত অফিসার হিসেবে ১৯৫৮-১৯৬০ সালে ব্রিটিশ ইনস্টিটিউট অব মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ব্রিটিশ ইনস্টিটিউট অব মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংএ গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৬৬ সালে নেভাল বেস চট্টগ্রামে চিফ ইঞ্জিনিয়ার নিযুক্ত হন এবং ১৯৬৭ সালে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার পদে উন্নীত হন। এ সময় তিনি ডেপুটেশনে পূর্ব পাকিস্তান অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ সংস্থার বরিশাল শাখায় যোগ দেন।

১৯৬৭ সালের ৯ ডিসেম্বর সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল পাকিস্তান দেশরক্ষা আইনে মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতার করে। সরকার ১৯৬৮ সালে ফৌজদারি আইন সংশোধন করে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য’ নামে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ গঠন করে। ভারতের সম্পৃক্তি বোঝাতে এবং জনগণের কাছে হেয় করবার লক্ষ্যে গণমাধ্যমে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত করানো হয়।

এ মামলার ৩৫ জন অভিযুক্তের মধ্যে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন দ্বিতীয়। তাঁর বিরুদ্ধে ১৯৬৪ সালের শুরু থেকে স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নৌবাহিনীতে অবস্থানরত বাঙালী সমন্বয়ে একটি সশস্ত্র সংগঠন গড়ে তোলা, সেনা ও বিমান বাহিনীর বাঙালী কর্মকর্তাদের পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা, কার্যক্রম সফল করার জন্য শেখ মুজিবুর রহমানসহ পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সিভিল সার্ভিসের বাঙালী কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন গোপন বৈঠক এবং সংগঠন পরিচালনার তহবিল সংগ্রহ করার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।

মামলায় শেখ মুজিবুর রহমান ও মোয়াজ্জেম হোসেনসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয় তা সর্বৈব সত্য ছিল। মোয়াজ্জেম হোসেন বাঙালীর মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলেন পাকিস্তান সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর বাঙালী সদস্যদের সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে। আর এ লক্ষ্যে তিনি সংগঠিত করেছিলেন বাঙালী সেনাদের। তৎকালীন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের সাথেও এ বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা হয় কয়েক দফায়। অর্থ সংগ্রহ করতে শুরু করেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শুরু করেন রাজনৈতিক ও সামরিক প্রশিক্ষণও।

স্টুয়ার্ড মুজিবুর রহমান (নৌবাহিনী), এলএস সুলতানউদ্দিন আহমেদ (নৌবাহিনী), সিডিআই নূর মোহাম্মদ (নৌবাহিনী), সার্জেন্ট জহুরুল হক (বিমানবাহিনী), এসএসি মাহফুজুল বারী (বিমানবাহিনী), মেজর ডা. শামসুল আলম (সেনাবাহিনী), ক্যাপ্টেন এ শওকত আলী মিয়া (সেনাবাহিনী), ক্যাপ্টেন খন্দকার নাজমুল হুদা (সেনাবাহিনী), ক্যাপ্টেন এ.এন.এম নুরুজ্জামান (সেনাবাহিনী), সার্জেন্ট আবদুল জলিল (বিমানবাহিনী), এবি মোহম্মদ খুরশিদ (নৌবাহিনী), কর্পোরাল আবুল বাশার মোহম্মদ আব্দুস সামাদ (বিমানবাহিনী), সিএসপি কর্মকর্তা আহমেদ ফজলুর রহমান, খান মোহাম্মদ শামসুর রহমান ও খন্দকার রুহুল কুদ্দুস, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক ভূপতিভুষণ চৌধুরী ওরফে মানিক চৌধুরী, রাজনীতিক বিধানকৃষ্ণ সেনসহ অসংখ্য সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিকে সম্পৃক্ত করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিটি সেনানিবাসের বাঙালীদের একটি সক্রিয় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন কমান্ডার মোয়াজ্জেম।

কিন্তু দুর্ভাগ্য আবারও বাংলার আকাশে ঘনায় দুর্যোগের ঘনঘটা। ‘পথিকৃৎ মুক্তিযোদ্ধা’ এইসব দেশপ্রেমিক বিপ্লবী বাঙালী সেনাদের মাঝেও ঘাপ্টি মেরে সুযোগের অপেক্ষায় ছিল ‘মীরজাফর’। ১৯৬৭ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে এই বিদ্রোহের সাথে যুক্ত বিমানবাহিনীর বাঙালী কর্পোরাল আমীর হোসেন বিশ্বাসঘাতকতা করে। সেনা গোয়েন্দাদের কাছে ফাঁস করে দেয় সশস্ত্র প্রস্তুতির সব পরিকল্পনা। ৯ ডিসেম্বরে গ্রেফতার হন মোয়াজ্জেম হোসেন। ১৯৬৮ সালের ৬ জানুয়ারীতে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে গ্রেফতার করা হয় দুজন সিএসপি অফিসার ও ২৮ জন বাঙালী সেনাসদস্যকে।

শুরু হয় গ্রেফতারকৃতদের উপর অকথ্য শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার জড়িতদের নাম ও পরিকল্পনার স্বীকারোক্তি আদায়ে। গ্রেফতারকৃতদের নিয়ে আসা হয় ঢাকা সেনানিবাসে। পূর্ব থেকেই জেলে আটক শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৭ জানুয়ারী মুক্তি দিয়ে জেলগেট থেকে পুনর্বার গ্রেফতার করে এই মামলা সম্পৃক্ততায় আটক করা হয় ঢাকা সেনানিবাসে। পরবর্তী সময়ে অর্ডিন্যান্স জারী করে পাকিস্তান পেনাল কোডের ১২১ ও ১৩১ ধারায় অভিযুক্তদের বিচারের জন্যে একটি বিশেষ আদালত গঠন করা হয়।

৬ মাস ধরে শতাধিক গ্রেফতারকৃতের স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টায় নির্যাতনের মুখে ১১জন স্বীয় সংম্পৃক্ততা স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়। এদের স্বীকারোক্তি এবং প্রমাণাদির উপর ভিত্তি করে মামলার চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়।

৩৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করা হয়:

  • শেখ মুজিবুর রহমান
  • কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন
  • স্টুয়ার্ড মুজিবুর রহমান
  • প্রাক্তন এলএস সুলতান উদ্দিন আহমেদ
  • সিডিআই নূর মোহাম্মদ
  • আহমেদ ফজলুর রহমান সিএসপি
  • ফ্লাইট সার্জেন্ট মাহফিজউল্লাহ
  • প্রাক্তন কর্পোরাল আবুল বাশার
  • মোহাম্মদ আবদুস সামাদ
  • প্রাক্তন হাবিলদার দলিল উদ্দিন
  • রুহুল কুদ্দুস সিএসপি
  • ফ্লাইট সার্জেন্ট মো. ফজলুল হক
  • ভূপতিভুষণ চৌধুরী ওরফে মানিক চৌধুরী
  • বিধানকৃষ্ণ সেন
  • সুবেদার আবদুর রাজ্জাক
  • প্রাক্তন হাবিলদার ক্লার্ক মুজিবুর রহমান
  • প্রাক্তন ফ্লাইট সার্জেন্ট মো. আবদুর রাজ্জাক
  • সার্জেন্ট জহুরুল হক
  • মো. খুরশীদ
  • খান মোহাম্মদ শামসুর রহমান সিএসপি
  • হাবিলদার আজিজুল হক
  • মাহফুজুল বারী
  • সার্জেন্ট শামসুল হক
  • শামসুল আলম এএমসি
  • ক্যাপ্টেন মো. আবদুল মোতালেব
  • ক্যাপ্টেন এ শওকত আলী মিয়া
  • ক্যাপ্টেন খন্দকার নাজমুল হুদা এএমসি
  • ক্যাপ্টেন এ এন এম নুরুজ্জামান
  • সার্জেন্ট আবদুল জলিল
  • মো. মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী
  • লে. এস এম এম রহমান

পরবর্তীতে জুনের ১৯ তারিখ থেকে ঢাকা সেনানিবাসের ১৯ সিগন্যাল ব্যাটেলিয়নের (বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ‘বিজয় কেতন’) মেস ভবনে বিশেষ আদালত বসানো হয়। মামলার নাম দেয়া হয় ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য’। শুনানীতে অভিযুক্তরা সকলেই তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে, এমন কি ৪ জন রাজসাক্ষী কামাল উদ্দিন, এবিএম ইউসুফ, আবুল হোসেন ও বঙ্কিমচন্দ্র দত্ত সাক্ষ্য দিতে গিয়ে শরীরে অত্যাচারের চিহ্ন দেখিয়ে পূর্বে দেয়া স্বীকারোক্তি অস্বীকার করেন। বিপাকে পড়ে সরকারী কৌঁসুলিরা।

এদিকে বাংলার মানুষ ততদিনে বুঝে ফেলেছে বাঙালীকে নেতৃত্বশূন্য করবার আইউব খানের চাল।  বাঙালী ছাত্র-শ্রমিক-যুব-জনতা পথে নামে। পুলিশের গুলিতে শহীদ হন আসাদ, রুস্তম, ড. শামসুজ্জোহা। ঢাকা সেনানিবাসে বন্দীদশায় হত্যা করা হয় মামলার ১৮ নম্বর অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হককে। ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ, আব্দুর রউফ, খালেদ মোহম্মদ আলী, সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক, শামসুদ্দোহা, মোস্তফা জামাল হায়দার, দীপা দত্ত, নাজিম কামরান চৌধুরীদের নেতৃত্বে ছাত্ররা ফুসে ওঠে আর মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে শ্রমিক-জনতা রাজপথ ছাপিয়ে তোলে।

প্রবল গণআন্দোলনের চাপে পাকিস্তানের তথাকথিত ‘লৌহমানব’ আইউব খান মাথা নোয়াতে বাধ্য হয়। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করলে বীরের বেশে মোয়াজ্জেম হোসেনসহ সকলে মুক্তিলাভ করেন।

এরপর তিনি আর কখনই পাক নৌবাহিনীর চাকরিতে যোগদান করেননি।

অবসর গ্রহণের পর মোয়াজ্জেম হোসেন প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হবার লক্ষ্যে ১৯৭০ সালের ২৪ মার্চ ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ঘোষণা করেন। তিনি ২৮ মার্চ লাহোর প্রস্তাব বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করেন। এ লক্ষ্যে তিনি লাহোর প্রস্তাব বাস্তবায়ন, এক দফা প্রভৃতি পুস্তিকা রচনা করেন।

১৯৭১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী মোয়াজ্জেম হোসেন লাহোর প্রস্তাব বাস্তবায়ন কমিটিকে ‘জাতীয়তাবাদী দল’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করেন। শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে তিনি কয়েক দফা বৈঠক করেন। মার্চের অসহযোগ আন্দোলনের সময় তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ইয়াহিয়া খানের বৈঠকে যেকোন ধরনের সমঝোতার পরিবর্তে সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের বিষয়ে জোড়ালোভাবে বক্তব্য রাখেন। তিনি তাঁর রাজনৈতিক কর্মীদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণের নির্দেশ দেন এবং এ উদ্দেশ্যে ১৬ মার্চ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত তিনি ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া সফর করেন।

মুক্তিযুদ্ধের প্রায় এক দশক আগেই যিনি সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলার মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখে তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন সেই পথিকৃৎ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন স্মরণে ১৯৭৬ সালের ১৬ জানুয়ারী রাঙামাটিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ ঘাঁটি বিএনএস শহীদ মোয়াজ্জেম নামকরণ করা, ডাকবিভাগ ১৯৯৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে তাঁর নামে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করা, ঢাকার একটি সড়কের নামকরণ করার মধ্য দিয়েই এমনতর বীরকে স্মরণে আমরা আমাদের দায়িত্ব সম্পন্ন করেছি।

আজও দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্যে তাঁর সময়োচিত অসামান্য কাজের এবং দেশের প্রতি জাতির প্রতি তাঁর দৃঢ় সংকল্প, সর্বোপরি তাঁর আত্মবলিদানের প্রকৃত স্বীকৃতি ও সম্মান এ রাষ্ট্র দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

লেখক: সাগর লোহানী, সম্পাদক, বাঙালীয়ানা

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.