নিরর্থক
কখনও তেমন কিছু করা হয়ে ওঠেনি
শুধু একবার, একটা বাসের দিকে
আধলা ইট ছুঁড়ে দিয়েছিলাম
বুড়ো মতো একজনকে ধাক্কা দিয়ে, পালাচ্ছিল।
আর একবার, অনেকের সাথে
হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়েছিলাম
স্বৈরাচারের বিপক্ষে, তারা যেন ক্যাম্পাসে না ঢোকে।
একবার হয়েছিলাম তোমার কাছাকাছি,
অনঙ্গার আগুনে গলে যেতে যেতে
ঠোঁট রেখেছিলাম তোমার ঠোঁটে, সেই কবে …
এক জীবন কেটে গেল,
কখনও আর তেমন কিছু করা হয় নি।

বিস্রস্ত
একদিন নিভে যেতেই হতো
কিন্তু অগোছালো রয়ে গেল সব,
পড়ার বই, লেখার টেবিল …
অথবা কবিতার খাতা
খুচরো পয়সার মতো
ছড়ানোছিটানো এক জীবন,
গোছানোর সময়টুকু পাওয়া গেল না।
এমন না যে, সময় ছিল না …
সময় অফুরান পাওয়াই গেল
অথচ সবই থাকলো বড্ড এলোমেলো।
একদিন চলে যেতেই হতো কিন্তু কি জানো এভাবে নয়, এভাবে নয়।

পড়ো
আমার শহরে ট্রাম চলে না;
নেই আইফেল টাওয়ার, বাকিংহাম
কিংবা একটা সাদা বাড়ি।
আমার শহরে এঁদো গলি,
গাবতলী, নিমতলী
আর্মেনিয়ান শেষ সমাধি
শহর জুড়ে থাকা লিলুয়া বাতাস
আর ছিলে এক আশ্চর্য তুমি।
আমার শহরে নেই কিছুই, শুধু
পড়ে আছে তোমার হেঁটে যাবার রাস্তা;
আর রাস্তা ঘিরে টুপটাপ,
ঘটতে থাকা অদ্ভুত সব যাদু …

খোঁজ
পৃথিবীতে প্রায় সবই ফেরতযোগ্য,
সামান্য কিছু যা অফেরতযোগ্য
তা থাকুক ঘাসের ওপর কিংবা
কফির মগে, অগোছালো বিছানায়
ফেলে যাওয়া চুলের কাঁটায়
সবই ফেরতযোগ্য, আর সামান্য যা কিছু
একটু শীতের রোদ, পড়ে আছে পায়ের কাছে।

দাগ
অনেকখানিই
এইরকম ব্যাপারটা
ফেলে গেছো, চুলের কাঁটা
বালিশের তলায়,
হালকা ঠোঁটের ছোপ
কফির মগে।
আয়নায় আটকানো
একটা টিপ
এলোমেলো সাদা বিছানা
কয়েকটা তুমি-গন্ধী চুল
অন্যমনস্ক কয়েকটা প্রসাধন
আর সাথে একটা গোটা জীবন …

লেখক:

অরূপ কুমার দাশ, স্থপতি, শিক্ষক ও কবি