১.
ইংল্যান্ডের মাঠগুলো তুলনামূলকভাবে বড়। আউটফিল্ড খুবই ফাস্ট। সে হিসেবে প্রথম নজরটাই হবে ফিল্ডিং। ফিল্ডিং ভালো করতে পারলে ম্যাচ জয়ের সম্ভবনা বেশী থাকবে। সে হিসেবে বাংলাদেশ দলের আজকের স্কোয়াডের দ্বাদশ প্লেয়ারটির নাম হোক সাব্বির রহমান৷ ও ভাই, হাসিয়েন না! সবাই একাদশ নিয়ে দিচ্ছে, তাই আমি দ্বাদশ প্লেয়ার দিয়ে শুরু করলাম।
সাব্বির দুর্দান্ত ফিল্ডার। ভালো ক্যাচ নিতে পারে। ব্যাটিংয়ে সে দায়িত্ব জ্ঞানহীন যেহেতু, একাদশে না থাকুক। তবুও লেগস্পিন সুবিধা নেয়ার জন্য টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে খেলাতে পারে। সে একাদশে না থাকলে খারাপ লাগবে না। থাকলে ওই ‘যদি/কিন্তুর’ উপর ভর করে একটা ভালো লাগা থাকবেই। সাব্বির যেহেতু স্ট্রোক খেলতে জানে সে হিসেবে এটা বলা যায় সে যদি একবার দাঁড়াতে পারে, তাহলে এনাফ ইজ এনাফ। কিন্তু নিজেকে দাঁড় করাবার আগেই সে পড়ে যায়। বিয়ে করেছে সম্প্রতি। আশাকরি দায়িত্বজ্ঞান সম্পর্কে সে সচেতন হয়েছে কিছুটা হলেও।
আনন্দের খবর হচ্ছে তামিম খেলতে পারবে এবং আশাকরি সে খেলবেই। তামিমের সাথে ওপেনিংয়ে সৌম্য। তিনে চাইবো লিটন যেন খেলে। ইংল্যান্ডের এই বিশাল বিশাল মাঠে খুব সাবলীলভাবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছক্কা মারার প্লেয়ার বাংলাদেশে কিন্তু এই লিটন আর সৌম্যই আছে। আর সাব্বিরের যদি দাঁড়ায়, তাহলে সেও আছে। কিন্তু লিটনের মনে হয় একাদশে জায়গা হবে না। প্যাথেটিক।
এরপরে সাকিব, মুশি, মিথুন, মাহমুদউল্ল্যাহ বরাবরই অটো চয়েজ। সাত নাম্বারে মোসাদ্দেক/সাব্বির। কিন্তু মোসাদ্দেকের প্রতি ভোট। বোলিং পারে, ফিল্ডিংও ভালো, ব্যাটিং তো সবাই জানে। সাউথ আফ্রিকার যেহেতু স্পিনভীতি আছে সে হিসেবে আটে মিরাজ খেলবে বলা যায়। উইকেট টু উইকেট বল করে মিরাজ রান আটকে রাখতে পারে। সে হিসেবে সাকিবের কৌশলী ঘূর্ণীতে উইকেট আসবেই। নয়ে ম্যাশ, দশে ফিজ, এগারোতে রুবেল। সাইফুদ্দিনের পিঠের ইনজুরী ঠিক হলে তাকেই খেলানো উচিত।
২.
ডি কক, ডু প্লেসিস এরা একটা লাইফও যদি পায় তাহলে আপনার লাইফটাকেই তামা তামা বানিয়ে দিবে। মানে ফেসবুকের ভাষায়- খেয়ে ছেড়ে দিবে জাস্ট৷ সো ফিল্ডিং মাস্ট। দ্বাদশ প্লেয়ার সাব্বির তাহলে, ওকে?
আমলা মনে হয় ইঞ্জুরীর কারণে মাঠে নামতে পারবে না আজ। ডি কক ছেলেটা সুন্দর। আপ্পি সমাজ আজকের জন্য অন্তত ক্রাশ খাইয়েন না। বরং দোয়া করবেন দ্রুতই যেন ককের পতন হয়, মানে উইকেট।
রাবাদাকে একটু দেখেশুনে খেলতে হবে। এটা আপনাদের রাবা খান না কিন্তু। মাত্র দুইভাষায় নয়, সে বল করে বহু ভাষায়। ইয়র্কার, স্লোয়ার, বাউন্স, ইনসুইং; দেখেশুনে না খেললে ড্রেসিং রুমটা দেখিয়ে দিবে শুধু।
ডেল স্টেইন যদি মাঠে নামে তাহলে যে যেখানে আছেন সেখান থেকেই আয়াতুল কুরশী পড়বেন। মনে রাখবেন বিকেল টাইমটা বিশেষ করে ইফতারের সময় আল্লাহ দোয়া কবুল করেন৷ এটা জানোয়ার। ১৪৫, ১৪৬, ১৪৭, ১৪৮ এটাতেই সে উঠানামা করে। মাঝে একটা বল ১৩০ দিয়ে দিলে সেটা আর বল না, সেটা পটাশিয়াম সাইনাইড। (?)
প্রত্যেকটা উইকেটকেই ইমরান তাহির সুন্দরী প্রেমিকা মনে করে। দেখা পেলেই জড়িয়ে ধরার জন্য দৌঁড় শুরু করে। তার এই দৌঁড়টা দেখতে ভাল্লাগে না আর। দীর্ঘদিন ধরেই একই এক্সপ্রেশান তো। তার দৌঁড় থামাতে হবে। একটু দেখেশুনে খেললেই হবে।
ব্যাটে, বলে, ফিল্ডিং সর্বত্রই ভালো খেলতে হবে। আগে ব্যাট করলে ৩০০ মাথায় রাখতে হবে(ডেল স্টেইন খেললে আরো ২০ মাফ।) ২৮০ এটলিস্ট। পরে ব্যাট করলে আফ্রিকাকে ৩০০ এর ঘরে আটকাতে হবে। বাংলাদেশ জিতবে, এবং সেই বিশ্বাসটা রাখি ক্যারিশম্যাটিক ম্যাশ আছে বলেই। সাকিব ভালো খেলবে আজ। ২ উইকেট পাবে, ব্যাটে রান করবে। এবং সে’ই হবে ম্যান অব দ্য ম্যাচ। এমনটা ঘটলে ম্যাচ শেষে আমার পোস্ট আবার পেয়ে যাবেন সবাই। তখন লিখবো, ‘কি মশাই, বলেছিলুম কিনা!’
আর না ঘটলে আমার কিসের দোষ! আমার বিশ্বাস নিয়ে সাকিব খেলা করবে এই আর কি। সে তো খেলোয়ার, খেলুক। সুতরাং-
জয় আসবে। জয় আসছেই!
মাতো আনন্দে, উল্লাসে…
খেলবে টাইগার নাচবে দেশ
জোরসে বলো, বাংলাদেশ!
‘জয় বাংলা’
লেখক পরিচিতি:
কামরুল নাজিম, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
*এই বিভাগে প্রকাশিত লেখার মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাঙালীয়ানার সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকা অস্বাভাবিক নয়। তাই এখানে প্রকাশিত লেখা বা লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা সংক্রান্ত আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় বাঙালীয়ানার নেই। – সম্পাদক

