আস্থার প্রতিদানে ম্যাচসেরা

Comments

একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার এর বড় অভাব বোধ করছিল বাংলাদেশ বহুদিন ধরে। জিয়াউর রহমানকে দিয়ে চেষ্টা করা হয়েছিল। সুযোগ পেয়েছিলেন পর্যাপ্ত কিন্ত ফলাফল আশাব্যাঞ্জক নয়। সাইফুদ্দিন বা আরিফুল হককে নিয়ে টিম ম্যানেজম্যান্ট এর প্রত্যাশা আছে। সাইফুদ্দিন জিম্বাবুয়ে সিরিজে সুযোগটা পেয়েই যেন সবরকম সদ্বব্যবহার টাই করলেন। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে হলেন ম্যাচসেরা।

প্রথম ম্যাচে দলের প্রয়োজনীয় মুহূর্তে অসাধারণ এক অর্ধশতকে ইমরুল কায়েসের সঙ্গে শতরানের জুটি দিয়ে জানান দিয়েছিলেন তার ব্যাটিং সামর্থ্যের। তবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বল হাতে জ্বলে উঠে একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার এর স্বার্থকতা জানান দিলেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মহামূল্যবান উইকেট সেই সাথে ডেথ ওভারে বুদ্ধিদ্বীপ্ত বোলিং সাইফুদ্দিনকে আজকের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় করে তোলে।

ইমরুল কায়েস খেলেছেন ৯০ রানের অসাধারণ এক ইনিংস যা বাংলাদেশ দলের জয়ের মূল ভিত্তি। তার সঙ্গী লিটন দাসের ৭৭ বলে খেলা ৮৩ রানের ইনিংস যা শুরু থেকেই বাংলাদেশ দলকে এগিয়ে রেখেছিলো যোজন যোজন। কিন্তু তার আগে ব্যাটসম্যানদের কাজটাকে সহজ করে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। এই  পিচে ২৮০/২৯০ রান যে অনায়াসে আসবে তার ইঙ্গিত পিচ কিউরেটর আগেই দিয়ে রেখেছিলেন। পিচ দেখেই টসে জিতলে ব্যাটিং করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ।

তবে টসজয়ী বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি আস্থা রেখেছিলেন তার বোলিং আক্রমণের উপর। মিরাজ, মুস্তাফিজ, মাহমুদুল্লাহ অধিনায়কের আস্থার যথার্থতা রেখেছেন, তবে সবচেয়ে বেশী এগিয়ে ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে বেদম মার খাওয়া সাইফুদ্দিন। দলের পঞ্চম ওভারেই আক্রমণে এসে তুলে নেন অধিনায়ক মাসাকাদজার উইকেট। পরের স্পেলে এসে ক্রিজে জমে যাওয়া উইলিয়ামস কে ফিরিয়ে অধিনায়কের চিন্তা দূর করেন। আর শেষের দিকে আঁটসাঁট বোলিংই তো জিম্বাবুয়ে কে ২৪৬ রানে বেঁধে ফেলার মূল ভিত্তি, সেই সাথে ভয়ংকর হওয়ার ক্ষমতা রাখা এলটন চিগাম্বুরার উইকেট।

সাইফুদ্দিন নিজেকে বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন।তাই বল হাতে ভালো করে ম্যাচসেরা হওয়ায় বেশ উচ্ছসিত সাইফুদ্দিন। প্রথমবারের মতো ম্যাচ সেরার পুরস্কার গ্রহণের অনুভূতি কেমন কাজ করতে জানাতে গিয়ে তিনি বলেন,“প্রথমবারের মতো ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতায় উচ্ছ্বসিত। সত্যিই খুব খুশি।”

এরপর তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা কিছু কারণ ব্যাখ্যা করেন তিনি। বল হাতে ১০ ওভার থেকে ৪৬ রান খরচ করে প্রতিপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ ৩ উইকেট শিকার করেন সাইফুদ্দিন। ডেথ ওভারেও বুদ্ধিদীপ্ততার প্রমাণ দিয়ে আটকে রাখেন রানের চাকা। এমন পারফর্ম্যান্সের পেছনে ঠিক কি সহায়তা করেছিল তাকে? তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ২১ বছর বয়সী এ অলরাউন্ডার জানান, “এখানের (জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম) কন্ডিশন ও পিচের আচরণ আমি ভালোভাবেই জানি। যার ফলে এ ধরণের ট্র্যাকে কীভাবে উইকেট টু উইকেট বল করতে হয় তা আমার জানা ছিল।”

সাইফুদ্দিনের জ্বলে ওঠার দিন এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। তাই নিয়মরক্ষার সিরিজের শেষ ম্যাচে ২৬ অক্টোবর, ২০১৮ মাঠে নামবে টাইগাররা। একই সময়ে একই ভেন্যুতে ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর ২.৩০ মিনিটে।

বাঙালীয়ানা/এইচকে/জেএইচ

আরও পড়ুন:

হেসেখেলেই সিরিজ জয় বাংলাদেশর 

নতুন বলে প্রথম আঘাত সাইফুদ্দিনের 

 

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.