উত্তরায় ৮ হাজার ৭৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে রাজউক

Comments

রাজধানী ঢাকার উত্তরায় ৮ হাজার ৭৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে রাজউক (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ)। বুধবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৮, সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় উক্ত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

উল্লেখ্য, উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ১০৪টি ভবনে ফ্ল্যাটগুলো তৈরি করা হবে। প্রতিটি ভবনে ৮৪টি ফ্ল্যাট থাকবে। এর প্রকল্প ব্যয় ৫ হাজার ৯৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় ফ্ল্যাটগুলো নির্মাণ করা হবে। কাজটি হবে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকার পর্যায়ে (জিটুজি) বাস্তবায়ন করা হবে। উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘বি’ ও ‘সি’ ব্লকে ভবনগুলো তৈরি করা হবে। বেইসমেন্টসহ ১৬ তলাবিশিষ্ট ভবনগুলোর ভিতরে ৫২টি ভবনে করা হবে ১ হাজার ২৫০ বর্গফুট আয়তনের ৪৩৮টি ফ্ল্যাট। আর অন্য ৫২টি ভবনে করা হবে ৮৫০ বর্গফুট আয়তনের ৪ হাজার ৩৮৮টি ফ্ল্যাট। রেড টেন ইনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি ভবন নির্মাণের কাজ পেয়েছে।

আগামী দুই বছরের মধ্যেই ফ্ল্যাটগুলো নির্মাণ করা সম্ভব হবে বলে জানা গেছে। রাজউক আরও বলেছে, ‘ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজড বিল্ডিং সিস্টেম(আইবিএস) অনুযায়ী ভবনগুলো নির্মাণ করা হবে। ভবন তৈরির এই নতুন পদ্ধতিটি মালয়েশিয়ায় জনপ্রিয়। প্রচলিত পদ্ধতিতে একটি ভবনের ছাদ নির্মাণে এক থেকে দেড় মাস সময় লাগলেও আইবিএসে ছাদ তৈরি করতে লাগে মাত্র ১০ থেকে ১২ দিন।’

বুধবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৮, বৈঠক শেষে অতিরিক্ত সচিব নাসিমা বেগম সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশে এই প্রথম আইবিএস পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। এই পদ্ধতিতে নির্মিত হওয়া ছাদে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থাও থাকবে, যাতে করে সংকটকালীন সময়ে পানির চাহিদা পূরণ করা যায়। প্রকল্পের আওতায় স্কুল, কলেজ ও কনভেনশন সেন্টারও থাকবে। এ ছাড়া থাকবে খেলার মাঠ ও সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্ট।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আবাসন ব্যবসায়ীদের সমিতি রিহ্যাবের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রাজউকের ভালো নয়। উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে এর আগে ১৬ তলার ৪৯টি ভবনের কাজ দেশীয় প্রতিষ্ঠান এনা প্রপার্টিজকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় এনা প্রপার্টিজের সঙ্গে একপর্যায়ে চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য হয় রাজউক। এ কারণেই রাজউক নিজস্ব তত্ত্বাবধানেই ফ্ল্যাট তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজউকের একটি কারিগরি দল মালয়েশিয়া সফর করে এসেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইবিএসে ভবন তৈরিতে প্রচলিত পদ্ধতির মতো কলাম, বিম, ছাদ, দেয়াল, ছায়া-দেয়াল ইত্যাদি নির্মাণ না করে অ্যালুমিনিয়াম কাঠামো নির্মাণ করা হয়।

বাঙালীয়ানা/এএ/জেএইচ

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.