। পিয়াংকী ।
বেগুনি ছাই এনেছি। আতর দিয়েছি যথাযথ। এখন প্রয়োজন একটি চুম্বক। আক্রোশের কথা বলতে গেলে খামোখা সময় থেকে বিয়োগ হবে সময়। আঙুলে ঘষা খেয়ে ছড়ে যাবে ছালচামড়া। তাই প্রতিশব্দের পরিবর্তে কিছু সাদা বক আঁকা যাক খোলা পিঠে। তুলে আনা যাক প্রণয়। ডাকঘরের পাশে পোড়োবাড়ির যে আধভাঙা দরজা লালচন্দনের কাঠে সাজানো বেদী অথবা জারুলতলার শোক উদযাপন, লুপ্ত হয়েছে যাবতীয়। গুপ্তরোগীর ভিতর ভিতর যেভাবে বেড়ে ওঠে মণসার কাঁটা ওইভাবেই কারা যেন স্নান সেরেছে শেষ বিকেলে। হেলে পড়া সন্ধ্যা-পরবর্তী এই মুহূর্তে চোখের নিচে বিছিয়ে দিয়ে গেল মাদুর। করণীয় কী সেটা কেউ বলে না।
শরীরে রাক্ষস ঢুকেছে। সেই থেকেই আমি নিরুপায়। ঘুমিয়ে থাকি প্রায়ই। অসহায় মানুষের মতোই নিজস্ব কোনো প্রতিযোগিতা নেই আমার। আমিসর্বস্ব রাজ্য কিংবা কালপুরুষ উভয়ই দ্বিতীয় কোনো ‘আমি’। বস্ত্রহরণ সম্পন্ন হয়েছে সামান্য কিছু আগে। শয্যার অপরাধ কাটিয়ে নবনির্মিত নৌকা এখন স্বাধীন। ঘাস ছেঁড়া ছাড়া যার কোনো কাজ নেই, সে তো ঠেসমূল দেখলে কেয়াপাতায় ডিঙি ভাসানোর কথা বলবেই। এতে আশ্চর্যের কিছু দেখিনি বলেই কি এত প্রদাহ?
আমায় তরলমতি হতে শিখিয়েছে মৃত আঁশ। হাতে বৈঠা পেঁচিয়ে জল হাতড়াতে বলেছে জনৈকা। বাধ্য থাকাটা বরাবরই নেশার মতো। নেশাগ্রস্ত বা ফকির হবার তাড়না। ফলতঃ জলের দরে বিকিয়ে গেল আহির ভৈরবের সবকটি মীড়। তাও, মেঘ জমলে সংসার সংগ্রহ করি, গহনা গড়ানোর সাথেই কলাপাতায় কাজল পাড়ি। বোকাসুখে এখনও ফেরি করি নকশিকাঁথার সারল্য। বোতামে বোতামে ছড়িয়ে গেছে যে ভয়াবহ অসুখ, কেউ কি তার অংশীদার?
উন্নাসিক সে। প্রতি রাত নির্ঘুম কাটায়। ভুলতে চেয়েও অকারণে জড়ো করে প্রাচীন প্রতিজ্ঞা।
চাঁদের গায়েহলুদ নিয়ে কারোর পরিকল্পনা ছিল অনেক। সেসব নিয়ে কথক লিখেছিল গদ্য, কবি কবিতা আর প্রত্নবিদ খুঁজেছিল যত গোপন তক্ষশীলা। কাঁচুলির দুইফাঁকের আংটা জোড়বার সময় আচমকাই লক্ষ করলাম বুকের লাল তিলটিতে ডাকহরকরা জমাতো যেসব চিঠি, সেখানে এখন জলাশয়। অথৈ। থৈথৈ বরষা। প্রকৃতি অনুকূল বলে পুঁতে দিয়েছি জমানো সব। এইমুহূর্তে সমগ্র জুড়ে পদ্মবন। অজস্র পদ্ম। এবং সেই রাক্ষসটি। পুনরায় প্রণয়। এতদিনের জমতে থাকা দীর্ঘ চুম্বন। একটি আত্মহত্যার কাছাকাছি এসেও সঙ্গমের দিকে ফিরে যাচ্ছে যৌথ শুক্রতত্ত্বযোগ…
লেখক:
পিয়াংকী
কবি ও গদ্যকার, কলকাতা
Feature Photo by Ferhat Köntek from Pixabay