বুড়িগঙ্গার ওপর দিয়ে উড়ে আসা দখিনা হাওয়া প্রাচীন লালবাগ কেল্লার বিশাল তোরণের চূড়া স্পর্শ করে উত্তরে বয়ে যেতে গিয়ে হরনাথ ঘোষ রোডের কিসমত হোটেলের ভেতরে থমকে দাঁড়ায়। পরীবিবির গল্প বলতে চায়। তখন স্নিগ্ধ বাতাসে ভোরের আজান ভেসে আসে।
ঝনাৎ শব্দে সিরামিকের প্লেট ভাঙার শব্দ আসে কিচেনের ভেতর থেকে, ধলা বাবুর্চি ছুটে গিয়ে দেখে কালা মিয়া ভাঙা প্লেট হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মেঝের দিকে মুখ করে। খানকির পোলা- উইদিন না একটা পেলেট ভাঙলি, আবার আইজকা ভাঙছোস, খাড়া আইজকা মালিকে আহুক তরে কেমনে সাইজ করতে হয় দেকবি? আবার তখনই মনে মনে বলে, কি কইবো মালিকে, কিছুই কইবো না, আগেওতো পেলেট ভাঙছে ওই কালায়, কিচ্ছু কয়নাইক্কা, মালিকে নরম, দয়ার শরীল।
কিসমত হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট। ঘড়ি ধরে কাজ শুরু হয়ে যায় সেই সাতসকালে।
ধলা বাবুর্চি চুলার ওপর বসানো বড় হাঁড়িতে সবজি চাপায়, আজ ফুলকপি গাজর আলু বেগুন বরবটির মিশেলে সবজি হবে দুর্দান্ত, হোটেলে আসা কাস্টমার ছাড়াও আশেপাশের মানুষ সকালের নাস্তা নিতে আসবে, গরম গরম পরাটার সাথে এই সবজি খেয়ে তারা খুশি হবে, ধলা বাবুর্চি এসব ভেবে আনন্দিত। সকালে সবজির সাথে থাকবে মুগডাল-মুরগি, খাসির নিহারী, ছোট ছোট টুকরার গরু ভুনা। দুপুরে ভাতের সাথে মাছ মাংস আর রাতে তন্দুরির সাথে বিরানী খিচুড়ি হাঁসের ভুনা মাংস। হোটেলে মানুষ আসে ক্ষুধার্ত হয়ে, রান্না ভলো হলে তবেই তারা হাপুসহুপুস ক’রে খেয়ে নেয়, খাবার পর একরাশ তৃপ্তি নিয়ে বিল দিয়ে চলে যায়।
পরীবিবি কিসমত মিয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে বলে, কালা মিয়ারে আর পাঠাইও না। – ক্যান কি করছে কালায়? – উই ছেঁড়া কোনো কামের না, একটা কইলে শুনে আর একটা, তারে আমি কইলাম একটা লাক্স সাবান আইনা দেও, সে আনলো লাইফবয়, দেহোতো, ওই লাল সাবান তো আমি গায়ে লাগাই না। – আইচ্ছা ওরে আর পাঠামু না।
পরদিন থেকে আর কালামিয়াকে পাঠায়নি কিসমত। এসেছে অন্য একটা ছেলে।
সকালে দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। উঠে যায় পরীবিবি, কে? দরজা খোলে সে। দেখে সামনে দাঁড়িয়ে আছে সুলতান মিয়া। তার হাতে টিফিন ক্যারিয়ার। সুলতান বলে- ভাবি, টিফিন বাটি খালি কইরা দেন, দুফুরে আমি ভাত দিয়া যামু।
টিফিন বক্সের ভেতরে একটাতে দুটো পরটা, একটাতে সবজি অন্যটাতে সুজির হালুয়া। সুলতানের দিকে তাকিয়ে পরীবিবি বলে, আইজ কী বাজার করছো? – বাজার করছি, গরু খাসি, মুরগি রুই আর পাংগাস আরও তিনচাইর পদ, এখনো ধলা ভাইয়ে দুফোরের রান্না স্টাট করে নাই, দুফুরে আপনার লেইগা কি আনমু কয়া দেন।
– মাছ আইনো না, আমার লেইগা গরু আনবা। কথা বলতে বলতে টিফিন বাটি খালি করে দেয় পরীবিবি।
সুলতানকে এর আগেও দেখেছে পরীবিবি, কিন্তু তার মধ্যে এতো পরিবর্তন! ভালোই হলো সুলতানকে পেয়ে। ছোটখাটো কাজগুলো করিয়ে নিতে পারবে পরীবিবি। সাবান তেল শ্যাম্পু দু’দিন পরপর এসব লাগেই তার।
এখন প্রতিদিন সুলতান মিয়া সকাল দুপুর নাস্তা আর ভাত নিয়ে আসে পরীবিবির জন্যে। আজ হোটেলের সন্মুখ থেকে চকবাজার পর্যন্ত পুরো রাস্তা জ্যাম। ক্যাশে বসে রাগে গজগজ করতে করতে কিসমত মিয়া বলে, আইজ এত্তো জ্যাম ক্যা? রিশকাঅলাগো সইজ্জো হয়না না! শালার পুতেরা একটা লাইনে থাকবার পারে না। বাবুর্চি ধলা মিয়া একটা কঠিন গালি দিতে গিয়ে থেমে গেল, তারপরও বললো- এই লাকড়ি দেখছস দিমুনে হোগার ভিতরে হান্দাইয়া, সে রাস্তায় নেমে গিয়ে শামসু হাজির ছেলেকে বললো, চাচা আপনে ভলানটিয়ার পাঠাইয়া দেন, এত্তো জ্যাম হইলে কাস্টমার আইবো কেমনে কন তো দেহি? শামসু হাজির ছেলে রুম্মন ইশারা করতেই পাঁচছয়জন যুবক ছেলে লাঠি হাতে রাস্তায় নেমে গিয়ে রিকশার পেছনে দুমদাম বাড়ি মারতে শুরু করে- লাইন একটা করবি, বুজছস ছালার পো, কথা কইলে কানে যায় না, না?
আগামসি লেইনের ডাক্তার বরকতুল্লাহর কাছে ওষুধ খায় কিসমত মিয়া। ডাক্তারের কাছে যাবে। খালি রিকশা পাওয়া কঠিন এখন। একেতো অফিস টাইম তার ওপর আশেপাশে স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের ব্যস্ততা, চকবাজার থেকে আজিমপুর পুরো রাস্তাটাই জ্যাম। কিসমত ভেবেছিলেন আজ একটু তাড়াতাড়ি ডাক্তার দেখানোর কাজটা সেরে ফেলবেন। আজিমপুর রোড ধরে সামনে এগিয়ে যেতে একটা খালি রিকশা পেয়ে গেলেন কিসমত।
ডাক্তার সাহেবের মুখোমুখি বসে কথা বলছিলেন কিসমত।
– যা যা ওষুদ দিছেন সবই তো ঠিকঠাক মতো খাইছি, যেই ভাবে ওয়াইফের লগে মিলতে কইছেন সেই ভাবেই মিলছি, আপনে নতুন ওষুদ দেন ডাক্তার সাব।
– কিসমত সাব, আপনে আমার পুরাতন রুগি, আপনারে আমি ওষুদ দিই খুব চিন্তা ভাবনা কইরা, আইজকা নতুন ওষুদ দিমু না, অইজকা আপনেরে একটা নতুন কিছু দিমু, ওয়েট করেন…।
বরকতুল্লাহ ডাক্তার তার নিজের প্যাডে কিছু লিখে বললেন, শুনেন, অইজকাইল বড় বড় রোগের পরীক্ষা হয় মেশিনে মানে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ল্যাবে, আপনে এই কাগজ নিয়া সোজা ধানমন্ডি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যানগা। ওরা আপনেরে সবকিছু বইলা দিব, ধরেন, এই কাগজে বেবাক লেইখা দিলাম।
কাগজ হাতে নিয়ে সেটার দিকে একবার তাকালেন কিসমত মিয়া।
বললেন- কইলাম নতুন ওষুদ দেন, ওষুদ না দিয়া আপনে আমারে কৈ পাঠাইতাছেন ডাক্তার সাব?
– দেহেন আপনের যে সমস্যা, এইখানে যাওয়া এখন জরুরি, আপনে যান, ডরের কিছু নাই।
ডাক্তার বরকতুল্লাহর দেয়া কাগজ হাতে নিয়ে কিসমত যায় ধানমন্ডি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। যেভাবে তাকে শিখিয়ে দিয়েছেন ডাক্তার, টাকা জমা দেয়ার পর সেভাবেই কিসমত চলে যান সেখানে, কাউন্টারের লোকটা তার হাতে টাইপ করা কাগজ দিয়ে বলেন- দোতলায় দু’শো পাঁচ নম্বর রুমে চলে যান। সেখানকার সাদা অ্যাপ্রোন পরা এক ভদ্রলোক কিসমতকে জিজ্ঞাসা করে, আগে কখনো আইছিলেন এইখানে? – না ভাই, আগে আসি নাই। লোকটা প্রথমে কিসমতের বাম হাত থেকে সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত টেনে নেয়, তারপর একটা কাঁচের সেম্পল টিউব দিয়ে বলেন, ওই ওয়াশরুমে যান। কিসমত লোকটার দিকে তাকিয়ে থাকে বোকার মতো! লোকটা বললেন, আপনি তো আগে দেন নাই, না? কিসমত তাকিয়ে থাকে কিন্তু কিছু বলেন না। লোকটা তখন কিসমতকে বলেন, বাথরুমে গিয়া আপনার বীর্য আনবেন এই সেম্পল টিউবে, আমরা পরীক্ষা করে দেখবো আপনার বীর্য ঠিক আছে কি না। কাঁচের সেম্পল টিউব হাতে নিয়েই কিসমত তার নিজেকে হারিয়ে ফেলে, এলোমেলো ভাবতে থাকে, অন্যরকম ভাবালুতা চলে আসে তার মনের গভীরে- পরীবিবির সাথে তার বিয়ে হয়েছে সাত বছর, কিন্তু তাদের সংসারে কোনো সন্তান নেই, কি এক কঠিন জীবন হয়ে গেল তাদের দুজনের, বিয়ের পরপর তো ভালই ছিল সবকিছু! কিন্তু এখন মানুষ তার বউকে বলে- উই বেডি তো বাঁজা, পোলাপাইন হইবো কেমনে, কিসমতকেও আড়ালে আবডালে অনেক আজেবাজে কথা বলে খারাপ লোকেরা। হঠাৎ বুকটা কেঁপে ওঠে কিসমতের, তাহলে! ডাক্তার সাবে আগে কইতো- আপনের ওয়াইফের দুষ, কিসমতও তা-ই ভেবে এসেছে এতদিন, কিন্তু ডাক্তার এখন সন্দেহ করছে তাকে! তাহলে কি তার বীর্যেই দোষ আছে ব’লে ভেবেছেন বরকতুল্লাহ ডাক্তার, সে কারণেই কিসমত বাবা হতে পারছে না! না তা হ’তে পারে না, তার বাপ চাচা ময়মুরুব্বিদের সবারইতো সন্তান আছে, তার বীর্যে দোষ হবে কেনো! – কি হলো ভাই, এখানে দাঁড়িয়ে কি ভাবছেন, যান ওয়াশ রুমে? – ও, যাইতাছি ভাই। ধীরে ধীরে ওয়াশরুমের দিকে হেঁটে যান কিসমত।
পরদিন সন্ধ্যায় তার পরীক্ষার রিপোর্ট আনতে যান কিসমত মিয়া। রিপোর্ট হাতে নিয়ে কিসমতের ভেতরটা পুড়তে থাকে হু হু ক’রে, কাকে জিজ্ঞাসা করবেন তিনি, কি লিখছে রিপোটে আমারে কইবেন ভাই? সম্ভব না, কাউকেই এভাবে জিজ্ঞাসা করা সম্ভব না তবুও সে সাহস ক’রে যেখান থেকে রিপোর্ট নিয়েছেন, সেখানে চলে যান, একজনকে একপাশে ডেকে নিয়ে বলেন, ভাই, এই রিপোটে কি লিখছে আমারে কইবেন? লোকটা একটু রেগে গিয়েই বললেন, কি বলছেন এসব! যে ডাক্তার আপনাকে টেস্ট করতে দিয়েছেন তার কাছে যান, এই কাজটাতো তার, তাই না? – চেইতেন না ভাই, সেই ডাক্তার দেশে নাই, আপনে তো এইগুলা দেহেন সবসুমে, কন না ভাই? লোকটা অবাক হয়ে দেখলো কিসমতকে, তারপর অনিচ্ছাসত্বেও রিপোর্টটা দেখলেন, সাথে সাথে বুঝতে পারলেন, রিপোর্টে যা কিছু এসেছে তার একটাও এই মানুষটার অনুকূলে নেই। ধরা যায় তার স্পার্মগুলো সবই মৃত! ভদ্রলোক একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, তিনি খুব ভালোভাবে কিসমত মিয়াকে বললেন, কিছু মাইন্ড করবেন না প্লিজ, এ সম্পর্কে কিছু বললে আমার চাকরি চলে যেতে পারে, আপনি আপনার নিজের ডাক্তারের কাছে চলে যান, সেটাই সবচেয়ে ভাল হবে। গভীর ভাবালুতায় ডুবে গেছেন কিসমত মিয়া। সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে লাগলেন। এখন বরকত ডাক্তারের কাছে গিয়ে রিপোর্ট দেখালে নানান সমস্যা, ডাক্তার জেনে যাবে আসল খবরটা, চারপাশে রটে যাবে পরীবিবি আদৌও বাঁজা নয়, তার কোনো দোষ নেই, আসল দোষটা কিসমত মিয়ার, তখন লজ্জায় তিষ্ঠাতে পারবেন না কিসমত, এমনকি শ্বশুর বাড়ির মানুষের প্ররোচনায় পরীবিবি তার কাছে তালাক চেয়েও বসতে পারে, বাস্তব দুনিয়াটা খুবই নিষ্ঠুর!
দাঁড়িয়ে ছিলেন কিসমত। ল্যাবের ভেতরের সেই লোকটা তার পাশে এসে বললেন, আপনার ডাক্তার যদি বিদেশে চলে গিয়ে থাকে তাহলে আপনি এখানেই রিপোর্টটা দেখাতে পারেন, এখানেও অনেক বড় ডাক্তার আছে, দেখাবেন?- হ, দেখামু। লোকটা বললেন, তাহলে তিনশো পাঁচ নম্বরে চলে যান ওখানে ডাক্তার খান বসেন, তিনি বেশ বড় ডাক্তার, ফি নেবেন এক হাজার টাকা।
ডাক্তার খানের চেম্বারে ঘন্টাখানেক পর কিসমত সিরিয়াল পেয়ে গেলেন। ডাক্তারের সামনে গিয়ে বসলেন। ভীষণ ভয় লাগছে তার, কি বলেন ডাক্তার খান! রিপোর্ট দেখে ডাক্তার সাহেব বললেন, আপনার নাম কিসমত মিয়া, বয়স চৌত্রিশ বছর। বললেন, দেখুন কিসমত মিয়া, আমি যা বলবো সেটা শুনে ঘাবড়ে যাবেন না, মনে রাখবেন বেঁচে থাকাটা অনেক বড় বিষয়, আমাদের সামনে এই যে কাগজ, এই কাগজ অনুযায়ী আপনার ফাদার বা বাবা হবার সম্ভাবনা নেই। কিসমত মিয়া মাথায় হাত দিয়ে বললেন, স্যার আর একবার ভালা কইরা দেইখা কন, আমার খুব খারাপ লাগতাছে। দেখুন এই কাগজ সামনে রেখে আমি আপনার সাথে কথা বলছি, এটা হলো চিকিৎসা বিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞানের বাইরেও অনেক কিছু থাকে, সেখানে আপনার পিতা হবার সম্ভাবনা আছে, এই তো, এর বাইরে আমি আর কিছু বলতে পারবো না।
নিজের কাছে নিজেকে খুব ছোট মনে হলো কিসমত মিয়ার, এতেদিন ডাক্তার বরকতুল্লাহর কাছে যতোবার গেছে সে, ততোবারই ডাক্তার বোঝাতে চেয়েছে, দোষটা পরীবিবির, ওষুধ দিয়েছে দুজনের জন্যেই, কিন্তু এখন পরীক্ষা করালো তার, তাও একেবারে কঠিন একটা পরীক্ষা! এখন কি করবেন কিসমত মিয়া, কোথায় যাবেন! ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে বের হয়ে রিকশায় উঠে বসলেন।
– কৈ যাইবেন?
– আজিমপুর রোডে পীরসাবের মাজারে যাও।।
মাজারের ভেতর সাদা লুঙ্গি আর ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি পরে বসে আছেন খাদেম, হাতের তসবির মালা সরাচ্ছেন আঙুল দিয়ে, খুব আস্তে আস্তে। তিনি বলে চলেছেন, আল্লাহু আল্লাহু, চারপাশের গাড়িঘোড়ার শব্দ তার নিবিষ্টতা ভাঙতে পারছে না। কিসমত জানে এই মাজারের খাদেম দর্শনার্থী মানুষের কল্যাণে কথা বলেন, কিন্তু খুব কম কথা বলেন। খাদেম হুজুরের সামনে গিয়ে বসে পড়েন কিসমত- বাবা, আমার কিছু কথা আছিল, অনুমতি দিলে বলতে পারি, বলবো বাবা? খাদেম হুজুর তার বন্ধ চোখ খুলে তাকালেন কিসমতের দিকে- বলেন বাবাজী, সংক্ষেপে বলবেন। -বাবা, আমাদের সাত বচ্ছর শাদী হইছে, কিন্তু আমাদের কোনো সন্তান নাই, আইজ ডাক্তারের কাছে গেছিলাম, তারা পরীক্ষা কইরা বলছেন, আমার পোলাপান হইবো না, তাদের কথা শুইনা আমি অসুস্থ হইয়া পড়ছি, আমাদের কি কোনোদিন সন্তান হবে না বাবা? কিসমত মিয়ার দু’চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে। – আমি আপনারে দেইখাই বুজতে পারছি আপনি বহুত পেরেশান হইয়া আসছেন আমার কাছে, পেরেশান হইয়েন না বাবা। – তাইলে আমি এখন কি করবো, কেথাই যাবো, আমারে পথ দেখাইয়া দেন বাবা। – হতাশ হইয়েন না বাবা, মনের ভিতরে আশা রাইখেন, উপরঅলার ইচ্ছা হইলে আপনের সন্তান হবে, নিরাশ হইয়েন না। কিছুক্ষণ সবকিছু নিরব, চারপাশে মৌনতা। -তাইলে এখন আমি কি করমু? – নিরাশ হইয়েন না বাবা, ঘরে ফিইরা যান, আল্লার রহমত হইলে আপনার সন্তান হবে, যান।
ঘরে ফিরে কিসমত মিয়া অবাক। গুনগুন করে গান গাচ্ছে পরীবিবি! তাকে দেখে পরীবিবি একটা অদ্ভুত হাসি ছড়িয়ে দিল সমস্ত ঘরের ভেতর! মনটা তছনছ হয়ে আছে কিসমত মিয়ার, তবুও পরীর দিকে তাকিয়ে কিসমত বললেন, এতো হাসো ক্যালা পরীবিবি! পরী কিসমতকে তার বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে হেসেই চলেছে। কি করবে সে বুঝতে পারে না। ইংলিশ ফিল্মের নায়িকাদের মতো গভীর একটা চুমু খায় কিসমতের ঠোঁটে। আকস্মিক পরীর এই ব্যবহারে কিসমত মিয়া ভীষণ অস্বস্তি বোধ করে, বলে, আহা কী হইছে কওনা ক্যালা, জুলদি কয়া ফালাও।
হাসতে হাসতে পরী তার পেট দেখায়, বলে হয় নাই, হইবো, আমি মা হমু।
লেখক:
হাবিব আনিসুর রহমান, গল্পকার, শিক্ষক