দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলের ক্যান্টিনে রাতের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অন্তত ৩০ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ১৮ জন পেটে ব্যথা আর বমির মত লক্ষণ নিয়ে দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গত মঙ্গলবার রাতে তারা জিয়া হলের তরিকুল ক্যান্টিনে মুরগির মাংস ও আলু ভর্তা দিয়ে খিচুড়ি খান। এরপর রাত থেকেই তাদের পেট ব্যথা ও বমি শুরু হয়। বুধবার সারাদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে তাদের চিকিৎসা চলে। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় বুধবার রাতে ১৮ জনকে পাঠানো হয় জেনারেল হাসপাতালে।

খাদ্যে বিষক্রিয়া(ছবি- সংগৃহীত)
দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন কনসালটেন্ট ডা. শীতল চন্দ্র পাহান জানান, “ভর্তি ছাত্ররা খাদ্যে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত। তবে সবাই আশঙ্কামুক্ত।”
দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্ররা হলন- নজরুল (২১), সোহরাব (২১), নোমান (২১), কাওসার (২০), মুজিব (২০), রিফাত (২৪), আজগর (২১), আরিফ (২২), আবু রাসেল (২৩), সারোয়ার জাহান (২৩), আরিফ হোসেন (২২), ইয়াসিন আলী (২২), শুভ মরমু (২১), আব্দুর রহমান (২৪), উৎপল (২২), হাসেম (২১), ইয়াসির আরাফাত (২১) ও মেহেদী হাসান (২২)।
এদিকে পটুয়াখালীতে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় অন্তত ৪৫ শিশু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে ১৫ শিক্ষার্থীকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলের দিকে শহরের জান্নাতুন নেছা হাফিজি মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতালে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীরা হলো- উম্মে হাবিবা, জান্নাতুল নেকি, মাহাবুবা আক্তার, মরিয়ম বেগম, তানজিলা আক্তার, জায়েদা বেগম, সুরাইয়া আক্তার, মারজানা আক্তার, সানজিদা আক্তার, মানসুরা বেগম, হালিমা আক্তার, জুবায়েদা আক্তার, মরিয়ম জাহান ও রাবেয়া বেগম।
এসব শিক্ষার্থীদের বয়স ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে এবং এরা সবাই শহরের জান্নাতুন নেছা হাফিজি মাদরাসার ছাত্রী। বাকি শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নিজ নিজ বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
মাদরাসার পরিচালক মো. গোলাম মোস্তফা আরটিভি অনলাইনকে জানান, প্রয়াত জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খান মোশারফ হোসেনের জন্য মঙ্গলবার দোয়া মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন মরহুমের সহধর্মিনী খাদিজা বেগম।
মিলাদ শেষে ওই মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরের মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করা হয়। মাদরাসার পরিচালক নিজেই শহরের পৌর নিউমার্কেট বাজার থেকে গরুর মাংসসহ প্রয়োজনীয় মালামাল কিনে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেন। শিক্ষার্থীরা খাওয়া-দাওয়া শেষে বিকেলের দিকে পাঠদানে বসলে এক এক করে সবাই বমি করা শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে ৪৫ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পরে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, খাদ্যে বিষক্রিয়ায় এসব শিশু শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে।
