খাসোগিকে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা খুন করেছেন-সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Comments

সাংবাদিক খাসোগি হত্যাকান্ড নিয়ে সৌদি সরকার আবারও তাদের বক্তব্য পরিবর্তন করেছে। সৌদি সরকার এবার বলছে, তাকে কনস্যুলেটের ভিতরেই শ্বাসরোধ করা হত্যা করা হয়েছে (সূত্রঃ পার্সটুডে)। শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৮, প্রথমবারের মতো সৌদি আরব স্বীকার করে খাশোগি কনস্যুলেটের মধ্যেই কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির জের ধরে এক মারামরির ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২ অক্টোবর, ২০১৮, পারিবারিক কাজে তুরস্কের সৌদি কনস্যুলেটে গিয়ে নিখোঁজ হন সাংবাদিক জামাল খাসোগি। এরপর দুই সপ্তাহেরও বেশী সময় ধরে সৌদি প্রশাসন দাবী করে আসছিল তিনি সৌদি কনস্যুলেট থেকে জীবিত অবস্থায় বেড়িয়ে গেছেন। অন্যদিকে, তুরস্ক প্রশাসন তদন্তের সাপেক্ষে শুরু থেকেই বলে আসছে সাংবাদিক খাসোগিকে সৌদি কনস্যুলেটের ভিতরেই হত্যা করা হয়েছে। তাদের দাবি, খাসোগিকে সৌদি কনস্যুলেটের মধ্যে হত্যা করে তার লাশ টুকরা টুকরা করে ফেলা হয়েছে। এমনকি খাসোগি জীবিত থাকা অবস্থায়ই তার শরীর বিচ্ছিন্ন করা শুরু হয় বলে তারা জানিয়েছেন। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাপের মুখে পড়ে সৌদি সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে, রোববার,  ২১ অক্টোবর, ২০১৮,  সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবায়ের বলেন, খাসোগিকে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা খুন করেছেন এবং এটা ছিল ‘ভয়ঙ্কর ভুল’। (সূত্র: ফক্স নিউজ)

এদিকে, তুরস্কের সরকারপন্থি দৈনিক ইয়েনি সাফাক বলছে, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার আগে তার সঙ্গে ফোনালাপ করেছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি তাকে সৌদি ফিরে যাবার জন্য বুঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু, সৌদি সরকার বিশেষ করে নতুন সৌদি যুবরাজের কর্মকান্ডের অন্যতম সমালোচক এই সৌদি সাংবাদিক জেল কিংবা হত্যাকান্ডের স্বীকার হতে পারেন এমন আশংকায় যুবরাজের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স সৌদি প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে বলেন, ‘কনস্যুলেটের ভেতরে জামাল খাসোগিকে হত্যা করা হয় এবং হত্যার পর খাসোগির পোশাক পরে এক কর্মকর্তা কনস্যুলেট থেকে বের হয়ে যান। জামাল খাসোগি কনস্যুলেট থেকে বেরিয়ে গেছেন এটা প্রমাণ করতেই এমন কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়।’

তিনি আরও জানান, জামাল খাসোগিকে বুঝিয়ে দেশে ফেরত আনতে সৌদি আরবের গোয়েন্দা সংস্থার উপপ্রধান মেজর জেনারেল আহমেদ আল-আসিরি ১৫ জনের দল গঠন করেন। এ জন্য ১৫ সদস্যের এই দলের উপর শান্তিপূর্ণ উপায় অবলম্বনের স্থায়ী আদেশ জারি ছিল। তবে অনুমতি ছাড়া যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও ছিল ১৫ সদস্যের দলটির। দলটির পরিকল্পনা ছিল, ইস্তাম্বুলের বাইরে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খাসোগিকে আটকে রাখার হবে। শেষ পর্যন্ত যদি রিয়াদে ফিরতে না চান তবে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

কিন্তু, শুরু থেকেই পরিকল্পনা ভুল পথে পরিচালিত হতে থাকে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দ্রুত সহিংস হয়ে উঠেন এবং তাকে  কনসাল জেনারেলের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে খাসোগি মাহের মুতরেব নামের এক কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি তর্কে জড়িয়ে পড়েন। খাসোগি চিৎকার শুরু করলে তাকে শান্ত করতে মুখে কাপড় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এসময় তিনি শ্বাসরোধে মৃত্যুবরণ করেন। সৌদির প্রধান আইন কর্মকর্তা শেখ সৌদ আল-মোজেব এক বিবৃতিতে খাসোগির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে খাসোগির দেহ কোথায় রাখা হয়েছে, এ ব্যাপারে তিনি কোনো তথ্য দেননি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনার ব্যাপারে অধিকতর তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় ১৮ জন সৌদি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া সৌদ আল-কাহতানি ছিলেন সৌদি রাজ কোর্টের প্রভাবশালী সদস্য এবং যুবরাজ মোহাম্মদের উপদেষ্টা।  এদিকে, হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক হিসেবে বর্ননা করে বলা হয়, ‘এই দুঃখজনক ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্তের বিষয় আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং আনুষঙ্গিক কাজসহ যথাসময়ে স্বচ্ছ ন্যায়বিচারের পরামর্শ দিচ্ছি। খাসোগির মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার খবরে আমরা ব্যথিত এবং তাঁর পরিবার, প্রেমিকা ও বন্ধুদের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’ (সূত্রঃ বিবিসি)

বাঙালীয়ানা/এএ/জেএইচ

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.