জঙ্গিবাদ দমনে রোল মডেল বাংলাদেশ । হাসান ইবনে হামিদ

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

২৬ নভেম্বর ২০০৮ সাল, হঠাৎ করেই ভারতের বৃহত্তম শহর মুম্বাই কেঁপে উঠে জঙ্গিবাদের আতংকে। ২৬-২৯ নভেম্বর পর্যন্ত ভারত সর্বোপরি গোটা বিশ্ব প্রত্যক্ষ করে সন্ত্রাসবাদের ভয়াবহতা।

মুম্বাইয়ের প্রায় ১২টি স্থানে হামলা ঘটে। জায়গাগুলি হলো, তাজমহল প্যালেস অফ টাওয়ার, ছত্রপতি শিবাজী টার্মিনাস, ওবেরয় ট্রাইডেন্ট, লিওপোল্ড ক্যাফে, কামা হাসপাতাল, নরিম্যান হাইস কমিউনিটি সেন্টার, মেট্রো অ্যাডল্যাবস, এবং টাইমস অফ ইন্ডিয়া ভবন ও সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের পিছনের একটি গলি।এছাড়া মুম্বইয়ের বন্দর এলাকার মাজাগাঁও ও ভিলে পার্লের একটি ট্যাক্সির মধ্যেও বিস্ফোরণ ঘটে। ২৮ নভেম্বর সকালের মধ্যেই মুম্বাই পুলিশ ও অন্যান্য রক্ষীবাহিনী তাজ হোটেল ছাড়া অন্য সব আক্রান্ত স্থান সুরক্ষিত করে ফেলে। ২৯ নভেম্বর ভারতের জাতীয় রক্ষীবাহিনী (এনএসজি) তাজ হোটেলে আশ্রয়গ্রহণকারী অবশিষ্ট জঙ্গিদের হত্যার মাধ্যমে শহরকে জঙ্গিমুক্ত করে। কিন্তু ততক্ষণে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬৪ এবং আহত প্রায় হাজারখানেক। ২৬-২৯ নভেম্বর মুম্বাই তথা ভারত ছিলো এককথায় স্থবির, থমথমে ভীতিকর পরস্থিতি কাটতে চলে গিয়েছিলো আরো কয়েক মাস। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে এই হামলার মূল কাহিনী। পাকিস্তানী সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়াবার নেতৃত্বে এই হামলা সংগঠিত হয়। সন্ত্রাসীরা করাচি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। তারা গভীর সাগর পর্যন্ত একই জাহাজে ছিল। এরপর তারা একটি ভারতীয় মাছ ধরার নৌকা ছিনতাই করে এবং মুম্বাই উপকূলে এসে এর নাবিককে হত্যা করে। জীবিত অবস্থায় ধৃত একমাত্র জঙ্গি আজমল কাসাব জেরার মুখে স্বীকার করে, জঙ্গিরা ছিল পাকিস্তানি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার সদস্য এবং হামলার ছক কষেছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। উল্লেখ্য লস্কর-ই-তোইয়াবা ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও রাষ্ট্রসংঘ জঙ্গি-সংগঠনের তালিকাভুক্ত করে রেখেছে। এবং এই হামলার সাথে জড়িত প্রধান ব্যক্তি হিসেবে নাম আসে হাফিজ সাইদের। হাফিজ সাইদ জামাত-উদ-দোয়া সংগঠনের প্রধান যেটি জাতিসংঘের সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত একটি সংগঠন।

ভারত সরকার জানায়, হামলাকারীরা পাকিস্তান থেকে এসেছিল এবং তাদের নিয়ন্ত্রণও করা হয়েছিল পাকিস্তান থেকে। পাকিস্তানেরও তা অস্বীকারের উপায় ছিলো না এবং পাকিস্তানের তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী শেরি রহমান সরকারিভাবে স্বীকার করে নেন যে, আজমল কাসভ পাকিস্তানের নাগরিক। এদিকে পাকিস্তানের তৎকালীন আভ্যন্তরীণ বিষয় মন্ত্রী রহমান মালিক ভারত সরকারের দেয়া বিবৃতি স্বীকার করে বলেন যে, হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল পাকিস্তান থেকেই। আবার উইকিলিকসে এই হামলার সঙ্গে আইএসআই-এর যোগসূত্রের কথা উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফও স্বীকার করেছেন, ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলায় পাকিস্তানের সন্ত্রাসীরা জড়িত ছিল। তিনি এও স্বীকার করেন যে ইচ্ছা থাকলে এ ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা এড়ানো সম্ভব ছিলো। কিন্তু পাকিস্তানের কি আদৌ ইচ্ছে ছিলো? এই প্রশ্ন জনমনে প্রকটভাবে উঠে আসে যখন মুম্বাই হামলার মাস্টারমাইন্ডকে পাকিস্তান আদালত সকল অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খালাস দেয়। বিশ্ববাসী দেখলো একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী পাকিস্তানের আদালত কর্তৃক বাইরে বের হচ্ছে আরো ভয়াবহ নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য।

এতক্ষণ এই ঘটনাটি বলার পেছনে একটি সুনর্দিষ্ট কারণ রয়েছে। এবার সেই প্রসঙ্গে আসছি। এ বছর অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশন ও সার্কভুক্ত দেশগুলোর বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ স্পষ্টভাষায় আঞ্চলিক সন্ত্রাস নির্মূলের ক্ষেত্রে কিছু বার্তা দিয়েছেন এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিয়েছেন। মূলত ভারত-পাকিস্তান এর সন্ত্রাসবাদের আলোচনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠে এবারের আসর। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ইচ্ছে থাকলেও ভারতের সদিচ্ছার কারণেই তা বাস্তবায়িত হচ্ছেনা বলে পাকিস্তানের তরফ থেকে অভিযোগ জানালে সুষমা স্বরাজ কঠোর ভাষায় এর জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ দমনে শুধুই সদিচ্ছা দেখালে হবে না। গঠনমূলক কিছু করার ইচ্ছা থাকলে, আগে তা করে দেখাতে হবে। না হলে, শুধু বৈঠকে বসে কোনও কাজের কাজ হবে না। এই অঞ্চলে সন্ত্রাসের আশঙ্কা ও ঘটনা উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। গোটা বিশ্বে তো বটেই, আমাদের এই এলাকা (দক্ষিণ এশিয়া)-তেও শান্তি ও স্থায়ীত্বের পক্ষে সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসবাদ। কোনও বাছবিচার না করে সন্ত্রাসবাদকে সব রকম ভাবে মোকাবিলা করতে হবে আমাদের।’ তার এই বক্তব্যের এক পর্যায়ে উনি বাংলাদেশ সরকারের জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনের জিরো টলারেন্স নীতির কথাও উল্লেখ করেন এবং পাকিস্তান সরকারের জঙ্গিবাদ নীতির সমালোচনা করেন।

জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে প্রত্যকে দেশের সদিচ্ছা থাকা দরকার। শুধুমাত্র আলোচনাতে সমাধান আসবে না বরং এর কার্যকারিতা থাকতে হবে। কিন্তু পাকিস্তান এখন পর্যন্ত এর কার্যকারিতা দেখাতে পারেনি। পাকিস্তানের জঙ্গি ও সন্ত্রাসী বাহিনীকে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়টি সবারই জানা। এই জানা বিষয়কে এখন পর্যন্ত ভুল প্রমাণ করতে পারে নি পাকিস্তান। যেমন লস্কর-ই-তৈয়াবার কার্যক্রম বা অন্য জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রম এখন পর্যন্ত পাকিস্তানে চলমান। মুম্বাই হামলার মাস্টারমাইন্ডকে পাকিস্তান আদালত শুধু খালাসই দেয়নি বরং সেই তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ওপেন সভা সমাবেশ করছে, নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এই বিষয়গুলো থেকে পাকিস্তানের সন্ত্রাস লালন পালনের বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠে।

অনেক সময়ই ক্ষমতা নেয়া কোন সরকার তার মসনদ টিকিয়ে রাখতে জঙ্গিবাদের আশ্রয় নেয় কিন্তু পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তা রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে দেখা যায়। এই ব্যাপারে দু একটা উদাহরণ তুলে ধরছি। অতীতে বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ মাথাছাড়া দিয়ে উঠেছিলো। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতকে অশান্ত করে তুলতে দশ ট্রাক অস্ত্র চালানের ব্যাপারটা সবাই আমরা জানি। মূলত এই অস্ত্র বাংলাদেশ থেকে পাঠানো হচ্ছিলো ভারতের সেভেন সিস্টার্সের সন্ত্রাসীদের হাতে। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর আমরা জানতে পারি এতে সরাসরি জড়িত ছিলো তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুতফুজ্জামান বাবর যে বর্তমানে জেলে আছে এবং দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার রায়ে সর্বোচ্চ শাস্তির আদেশ জারি করেছে মহামান্য আদালত।

২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। মূলত একটি দুর্নীতিপরায়ণ ও চাঁদাবাজ সরকারের প্রধান ছিলেন তিনি যেখানে তারেক রহমান ও তাঁর ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো চাঁদাবাজির একটি সংঘবদ্ধ জোট এবং একটি সমান্তরাল সরকারব্যবস্থা চালিয়েছেন। আসামের সন্ত্রাসী বাহিনী উলফার জন্য পাকিস্তান থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে আসার ব্যবস্থা করার অভিযোগে খালেদা জিয়ার সরকার যে দায়ী সেটা আগেই উল্লেখ করেছি। অর্থাৎ খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকার সময়, ভারতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ধ্বংস করার জন্য বাংলাদেশ ও পাকিস্তান হাত মেলানোর প্রক্রিয়াটা ছিলো জঘন্য। পাকিস্তান ও তারেক চক্রের সমর্থনে বেশ কিছু ইসলামি মৌলবাদী দল বিখ্যাত হয়ে ওঠে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকেও সমর্থন দেওয়া হয় তখন। তারেক রহমান এসব মৌলবাদীকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। আর পাকিস্তান এদের ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। কিন্তু ফলাফল কি আসলো? আপনার পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রকে ঘায়েল করতে বা আপনার শত্রুকে ঘায়েল করতে যদি আপনি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ লালনের আশ্রয় নেন তবে তার কুফল যতোটুকু না আপনার শত্রুশিবির ভোগ করবে তার চাইতেও ভয়াবহ কুফল আপনাকে ভোগ করতে হবে। এর জ্বলন্ত প্রমাণ বর্তমান পাকিস্তান, কিন্তু এ থেকেও শিক্ষা নেয়নি তৎকালীন বিএনপি সরকার। ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন হরকাতুল জিহাদের মতো সন্ত্রাসী সংগঠনের অভয়ারণ্য হয়েছিলো এই বাংলাদেশ যেখান থেকে ভারতের বিরুদ্ধেও খুব সহজভাবেই কাজ চালিয়ে যেতো এসব সন্ত্রাসীরা। ২০০২-২০০৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিশ্বের সন্ত্রাসীদেশের তালিকায় স্থান করে নেয় যা ছিলো চরম লজ্জার। একইদিনে দেশের সবকটি জেলায় বোমা বিস্ফোরণ ছিলো আমাদের দেশের এক কলংকজনক অধ্যায়। তৎকালীন সরকার ভারতকে ঘায়েল করতে গিয়ে নিজেদের গায়েই সন্ত্রাসী তকমা লাগিয়ে নিয়েছিলো।

অপরদিকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়।‘কারো সাথে বৈরিতা নয়, সকলের সাথে বন্ধুত্ব’ এই নীতি অনুসরণ করে ‘গণভবন থেকে জনপথ রোড’ এর সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায় বর্তমান সরকার। ‘তেরঙ্গা-লাল সবুজ’ সম্পর্ককে মজবুত করতে শক্ত পদক্ষেপ নেয় শেখ হাসিনা সরকার। ভারতের অনেক সন্ত্রাসী বাংলাদেশে পালিয়ে ছিলো, তাদেরকে গ্রেফতার করে ভারত সরকারের হাতে তুলে দেয়া হয়। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার এবং খুব দ্রুতই সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত দেশ থেকে বেরিয়ে আসে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সন্ত্রাস দমনে পুরো বিশ্বের রোল মডেল হয়ে গিয়েছে। সন্ত্রাসবাদের ব্যাপকতা যেখানে চরম আকার ধারণ করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ বিশ্বের পরম শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো যেখানে সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থ হচ্ছে সেখানে ভৌগলিক অবস্থানে সবচাইতে ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদ দমনে একের পর এক সফল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান তো বটেই অনেক সামাজিক সূচকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতকে ছাড়িয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক জাতিসংঘ কর্তৃক প্রকাশিত মানবিক রাষ্ট্রের তালিকায় অনেক উপরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ যা ছিল চরম প্রাপ্তির। বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের মতাদর্শ লালন করবেনা এই দেশের মানুষ। হয়তো কোন সরকারে নীতি হতে পারে জঙ্গিবাদ লালনের কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নীতি কখনোই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেয়না। কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকেই এটি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বরং সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর হিসেবে পাকিস্তান নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আর তাই বিশ্বের সকল শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আবাসস্থল পাকিস্তান। লাদেনের মতো শীর্ষ সন্ত্রাসী আশ্রয় প্রশ্রয় পেয়েছিল এই পাকিস্তানেই যেমন করে বর্তমানে মুম্বাই হামলার মাস্টারমাইন্ডরা পাকিস্তানে উন্মুক্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশা, জঙ্গিবাদের মতাদর্শ থেকে বেরিয়ে এক মানবিক রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাক পাকিস্তান, তবেই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদমুক্ত এশিয়া গঠন সম্ভব।

লেখক: রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক।

আরো পড়ুন: দ্বি-পাক্ষিক সহযোগিতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত । হাসান ইবনে হামিদ

বাঙালীয়ানা/এসএস/

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.