নারায়ণঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে পুলিশসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সোমবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৮, সকালে আদমজী ইপিজেডের ‘সোয়াদ ফ্যাশনস’ এর শ্রমিকদের সাথে সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে। তারা এসময় বকেয়া বেতন ভাতার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে।
বেতন-ভাতার দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকরা সকাল ৯টা থেকে নারায়ণগঞ্জ-আদমজী-ডেমরা সড়ক অবরোধ করে। এসময় উক্ত সড়কে দুইঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এসময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা একটি কভার্ড ভ্যানে আগুন দেয়।
নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশের সুপার জাহিদুর রহমান বলেন, ‘বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে সকাল ৭টার দিকে ‘সোয়াদ ফ্যাশন’ এর শ্রমিকরা নারায়ণগঞ্জ-আদমজী-ডেমরা সড়ক অবরোধ করে। ঘণ্টাখানেক পর পুলিশ গিয়ে তাদের সড়ক থেকে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু শ্রমিকরা রাস্তা ছাড়তে অপারগতা প্রকাশ করলে এক ঘণ্টা পর পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ।
জাহিদুর রহমান আরও বলেন, এ সময় বিক্ষোভকারীরা একটি কভার্ড ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ১০/১২টি গাড়ি ভাংচুর করে। প্রায় এক ঘণ্টা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজন শ্রমিককে আটক করা হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় তিন পুলিশসহ প্রায় অর্ধশত মানুষ আহত হয়েছেন।
এদিকে পোশাক শ্রমিকরা সকাল থেকে ইপিজেড গেইট সংলগ্ন আদমজী-ডেমরা-নারায়ণগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখায় সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিপাকে পড়ে সাধারণ মানুষ।
শ্রমিকদের অভিযোগ, সোয়াদ ফ্যাশনসে কর্মরত তিন হাজার শ্রমিককে গত ৫-৬ মাস ধরে ঠিকমত বেতন পরিশোধ করছে না গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে, ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে এবং শ্রমিকদের না জানিয়ে কারখানা বন্ধের নোটিস দেওয়ায় তারা বিক্ষুদ্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন।এ বিষয়ে জাহিদুর রহমান বলেন, “সম্প্রতি গার্মেন্টটি বিক্রি করা হয়েছে। কুয়েতের একটি প্রতিষ্ঠান গার্মেন্টটি কিনে নিয়েছে। কিন্তু চুক্তি সম্পাদন না হওয়ায় শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।”
কারখানা কর্তৃপক্ষ আগামী ২০ নভেম্বর শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের ঘোষণা দিয়েছে বলে জানান তিনি।
বাঙালীয়ানা/এএ/জেএইচ
