বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পৃথক বেতন স্কেলের সুপারিশ ইউজিসির

Comments

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন স্কেলের সুপারিশ জানিয়েছে ইউজিসি। ইউজিসি’র ‘৪৪তম বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৭’-এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের কাছে এ সুপারিশ জানিয়েছে ইউজিসি। বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৮, অধ্যাপক আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে এ প্রতিবেদন পেশ করেন।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ঘোষিত জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তবে গত কয়েক বছর ধরেই শিক্ষকরা দাবি জানিয়ে আসছেন স্বতন্ত্র পে-স্কেলের। ২০১৫ সালের মে মাসে তৎকালীন প্রস্তাবিত অষ্টম জাতীয় স্কেলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পদমর্যাদা অবনমনের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্বতন্ত্র বেতন স্কেল ঘোষণা ও প্রস্তাবিত অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণের দাবীতে রাস্তায় নেমে আসেন।

এ নিয়ে টানা পাঁচ মাস আন্দোলন করেন দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীরাও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষকদের সঙ্গে আন্দোলনে সংহতি জানায়। এর প্রেক্ষিতে, বেতন কাঠামো পর্যালোচনায় একটি কমিটি গঠন করে সরকার। পরে ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতীয় বেতন স্কেলে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বিলোপের পর গেজেট প্রকাশ করে সরকার। এরপর এই গেজেটের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মান-মর্যাদা ও স্বার্থরক্ষা হয়েছে উল্লেখ করে আন্দোলন থেকে সরে আসেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা।

‘রাষ্ট্রপতির কাছে পেশকৃত ইউজিসির ঐ বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পৃথক বেতন স্কেল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে। এছাড়াও, শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য আকর্ষণীয় আর্থিক সুবিধাসহ অন্যান্য চাহিদা পূরণের সুযোগ থাকতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘নতুন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর পদগুলোতে স্থায়ীভাবে শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিতকরণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। অভিজ্ঞ শিক্ষকেরা যেন অপেক্ষাকৃত নবীন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদানে আগ্রহী হন, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’

এ বিষয়ে ইউজিসি’র কর্মকর্তারা জানান, উচ্চশিক্ষার মান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল। শিক্ষকদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দিলে আরও বেশি গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে, শিক্ষকতা পেশায় মেধাবীদের অংশগ্রহণও বাড়বে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল এই বিষয়ে বলেন, ‘জাতি গঠনে মেধা ও মনন দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপরই উচ্চশিক্ষার মান নির্ভর করে। ফলে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন যে এই সুপারিশটি করেছে, সে বিষয়ে আমরা অবগত। দীর্ঘদিন ধরে আমরা স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছি। আর তারই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্র্রপতিকে এই সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।’

বাঙালীয়ানা/এএ/জেএইচ

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.