সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপটি আরও ঘণীভূত ও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। ফলে দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এদিকে, ভারতীয় আবহাওয়া অফিস বলছে, মঙ্গলবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৮, সন্ধ্যা নাগাদ পূর্ব-মধ্য ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরও ঘণীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের ওড়িস্যা ও অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং বৃহস্পতিবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৮, সকালের দিকে সেটি স্থলভাগে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে সেপ্টেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে দুটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিলে তার নাম দেওয়া হয় দেয়ি। ভারতের উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করে দুর্বল হয়ে পড়া সেই ঝড়ের তেমন কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়েনি।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিলে এর নাম হবে তিতলি। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগর তীরের আটটি দেশের আবহাওয়া দপ্তর ও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেলে ‘তিতলি’ নামটি প্রস্তাব করে পাকিস্তান। এর শাব্দিক অর্থ প্রজাপতি।
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৮, সকাল ৬টায় নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৮৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ৮৭০ কিলেমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৫০ কিলোমিটার দক্ষিণও দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। সে সময় নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিলো ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠানামা করছিল।
এদিকে, নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা, ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয় অথবা উপকূলের কাছাকাছি থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বাঙালীয়ানা/এএ