বিজ্ঞানীদের ধারণাই পাল্টে দিল যে সুনামি

Comments

ভূমিকম্প ও সুনামির ফলে  ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়া একটি নিয়মিত ঘটনা । তবে গত শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার ওপর দিয়ে বয়ে গেল যে সুনামি, সেটা সবার মনে ধাঁধার সৃষ্টি করেছে। জরুরি উদ্ধারকারী তো বটেই এমনকি বিজ্ঞানীরাও এত বড় ঢেউ দেখে অবাক। এর আগে কখনো এমন অস্বাভাবিক অবস্থা পরিলক্ষিত হয়নি ।

ইন্দোনেশিয়ায় পালু শহরে ভূমিকম্প ও সুনামির আঘাতে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। যা বিজ্ঞানীদের কাছে অস্বাভাবিক এবং অবাক করার মত।  শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টার দিকে দেশটির সুলাওয়েসি দ্বীপের পালু শহরে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামি হয়। সুনামিতে সৃষ্ট প্রায় ছয় মিটার (২০ ফুট) উঁচু ঢেউ পালু শহরকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। কম্পনের পর আছড়ে পড়ে প্রলয়ংকরী সুনামির ঢেউ। সুউচ্চ ঢেউ লন্ডভন্ড করে দেয় উপকূলীয় এলাকা।

ভু-বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে এ বছরে সবচেয়ে বড় মাত্রার ভূমিকম্পের রেকর্ড এটি।

 

এএফপির খবরে জানা যায়, ভূতাত্ত্বিকেরা এটিকে ‘স্ট্রাইক-স্লিপ’ ঘটনা হিসেবে অবহিত করেছেন, যাতে ভূত্বক পরিবর্তিত হয় অনুভূমিকভাবে। এ ধরনের নড়াচড়ায় সাধারণত সুনামি হয় না। এ ঘটনায় ওই দ্বীপের চ্যুতির পূর্ব দিকের শিলা ঘুরে উত্তর দিকে গেছে। এ ধরণের ঘটনায় সুনামি হলেও এতে ছয় ফুট উচ্চতার ঢেউ সাধারণত দেখা দেয় না। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকম্পের পর বিশাল ঢেউয়ের আঘাতে পালু শহরের সবাইকে অবাক করে দিয়েছে।

ভু-বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক দফা বড় ঢেউ তৈরিতে সাগরতলে বড় ধরনের অবস্থান পরিবর্তনের ঘটনা ঘটতে হবে। অর্থাৎ, উল্লম্ব আন্দোলনের ঘটনা ঘটে পুরো পানির স্তরকে ওলট-পালট করলে পানি যেকোনো দিকে ছুটতে পারে। কিছু প্রাথমিক হিসেবে দেখা যায়, সাগরতলে যে স্থানচ্যুতি ঘটেছে, এটি উল্লেখযোগ্য হলেও তা এত বড় ঢেউ তৈরির জন্য যথেষ্ট নয়। তাহলে ঠিক কি কারণে এত বড় ঢেউ সৃষ্টি হলো?

গবেষকেরা বলছেন, ভূমিকম্পের ফলে পানির নিচের ভূমিধ্বসের কারণে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

যুক্তরাজ্যের ব্রুনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ হায়দারজাদেহ বলেন, ‘আমার হিসাব বলছে, ভূমিকম্পের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের বিকৃতি ৪৯ সেন্টিমিটার পর্যন্তই হতে পারে। এতে সর্বোচ্চ এক মিটার পর্যন্ত সুনামি হতে পারে। কিন্তু ছয় মিটার পর্যন্ত নয়। অন্য কিছু ঘটতে পারে। সম্ভাব্য দুটো কারণ হচ্ছে বিশাল ভূমিধস ও উপসাগরে তৈরি ফানেল। পরিবর্তনের বিষয়টি বুঝতে বাথিমেট্রিক জরিপ করতে হবে।’

শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিধস বিশেষজ্ঞ ডেভ পেটলি বলেন, কৃত্রিম উপগ্রহের তোলা ছবি অনুযায়ী, বাড়ির ভর একটি ছোট এলাকায় কেন্দ্রীভূত ছিল। ভূপৃষ্ঠের একটি বিশাল এলাকা খালি ছিল। ওই এলাকায় আগে বসতি ছিল। এ ঘটনাকে লিকুইয়াফিকেশন বলা হয়, যাতে ভূপৃষ্ঠের গঠন ভেঙে পড়ে এবং সক্রিয় ভূমিধসের সৃষ্টি করে। ওই এলাকা পর্যবেক্ষণে প্রভাব বোঝা যাবেই।

এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা এর কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করছেন। হয় তো খুব শিগগিরি এর কারণ জানা যাবে। কেন না ভু-স্তরের পরিবর্তনের এত দ্রুত প্রভাব সম্পর্কে জানা না গেলে এর মাত্রা বা ভয়াবহাতা রোধ করা সম্ভব হবে না। যা মানব সভ্যতার জন্য সত্যি আশংকাজনক।

বাঙালীয়ানা/এমএইচ/এআর

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.