ইয়েমেনে বিমান হামলায় শিশু নিহত হবার ঘটনায় ‘ভুল’ স্বীকার করে ‘দুঃখ’ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। গতকাল শনিবার, ১ সেপটেম্বর, ২০১৮, বিবিসিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা দুঃখ প্রকাশ করে এবং বাসে হামলার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেয়।
প্রসঙ্গত, বিগত ৯ আগস্ট, ২০১৮, উত্তরাঞ্চলের সাদা প্রদেশে একটি বেসামরিক বাসকে লক্ষ্য করে চালানো বিমান হামলায় ৪০টিরও বেশি শিশু নিহত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠনও এ হামলার নিন্দা জানিয়েছিল।
যদিও এক হুতি নেতাকে লক্ষ্য করেই ওই বিমান হামলা চালানো হয়েছিল বলে দাবি সৌদি সামরিক জোটের। এ বিষয়ে জয়েন্ট ইনসিডেন্টস অ্যাসিসটেন্ট টিমের (জেআইএটি) প্রধান, লেফটেনেন্ট জেনারেল মানসুর আল মনসুর জানান, হুতি নেতা ও যোদ্ধাদের বহন করার কারণে বাসটি ‘বৈধ’ সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছিল। তবে, হামলার স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংগঠিত ভুলের কারণেই এই ঘটনা ঘতেছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ-তে শনিবার দেওয়া বিবৃতিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট বলে, “জোটের যৌথ বাহিনী কমান্ড ওই ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে। হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা, সহানুভূতি ও সংহতিও জানাচ্ছি আমরা।” এছাড়াও, ইয়েমেনের পশ্চিমা সমর্থিত সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে হতাহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাসের পাশাপাশি বিবৃতিতে ইয়েমেনে অভিযান পরিচালনার ধরন পর্যালোচনারও ঘোষণা দেওয়া হয়।
এদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো শুরু থেকেই ইয়েমেনের বিভিন্ন মার্কেট, স্কুল, হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকায় হামলা চালিয়ে বেসামরিক হত্যার অভিযোগ করে আসলেও সৌদি জোট এসব অস্বীকার করে আসছে। গত সপ্তাহেও ইয়েমেনের হোদায়দা বন্দর এলাকায় সৌদি জোটের এক বিমান হামলায় নিহতদের মধ্যে অন্তত ২২টি শিশু ও চারজন নারী ছিল বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে।
২০১৫ সালের শুরুর দিকে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা প্রেসিডেন্ট আবদরাব্বু মানসুর হাদিকে উৎখাতের পর থেকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। হুতিদের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি আরব দেশ ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হাদির পক্ষে প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপ শুরু করে।
কয়েক বছর ধরে চলা সংঘর্ষে নারী শিশুসহ নহত হয়েছে ১০ হাজার জন, আহত হয়েছে ৫০ হাজার জন। জাতিসংঘের মতে নিহতের দুই-তৃতীয়াংশই বেসামরিক নাগরিক। এছাড়াও, সৌদি জোটের সার্বিক অবরোধের কারণে দুই কোটিরও বেশি মানুষকে মানবেতর মানবেতর পরিস্থিতিতে আছে বলে ভাষ্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর।
বাঙ্গালীয়ানা/এএ
