হাই কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদধারী শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সনদ জালিয়াতি হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই এই স্থগিতাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়।
উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদপ্রাপ্তদের ভিতর অনেকেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছে। গতকাল মঙ্গলবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৮, দারুল ইহসান থেকে পাস করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, “উক্ত সনদের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) গ্রহণ করবে।”
কিন্তু আজ বুধবার এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উক্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায়, সনদ জালিয়াতি যদি হয়ে থাকে বা ভবিস্যতে হয় তাহলে তা যাচাই করার কোন সুযোগ নেই। এই জটিলতার প্রেক্ষিতেই মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে, ইতোমধ্যেই পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত স্থগিতের অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর(মাউশি) মহাপরিচালক, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক ছাড়াও সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদপ্রাপ্ত প্রায় তিন হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিওভুক্তির বিষয়টি আবারও অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হয়েছে।
বেশ কয়েকটি মামলা ও রিট আবেদনের ভিত্তিতে, হাইকোর্ট সারা দেশে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণা করলেও, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদধারীদের সনদ অবৈধ ঘোষণা করেনি। এতে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদপ্রাপ্ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে এই জটিলতার সৃষ্টি হয়।
বাঙালিয়ানা/ এ এ/এসএল
