নিউজিল্যান্ডের ক্রাইসচার্চের সাউথ আইল্যান্ডের আল নুর নামের একটিসহ দুটি মসজিদে বন্দুকধারী সন্ত্রাসীর হামলায় নিহত ৪০ এ পোঁছেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ৷ আহত বহু। যাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই গুরুতর।
প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জানিয়েছে, সেনার পোশাকে মসজিদের ভিতর ঢুকেছিল ওই বন্দুকবাজ। মসজিদে প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি চলে। তবে পুলিশ এখনও হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। শহরের তৃতীয় একটি স্থানে গোলাগুলি হওয়ার ও স্ট্রিকল্যান্ড সেইন্টে একটি গাড়ি বোমা থাকার খবর প্রকাশিত হয়েছে, পুলিশ জানিয়েছে এগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন শুক্রবারের ঘটনা প্রসঙ্গে এদিনকে নিউজিল্যান্ডের “ডার্কেষ্ট ডে” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ জানিয়েছেন ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ৩জন পুরুষ ও ১জন নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এলাকার সব স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পুরো ক্রাইস্টচার্চে বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা। পুরো শহর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। সকলকে নিজ নিজ ঘরের ভেতর থাকার নির্দেশনা দিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
এ অবস্থায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল তাদের তৃতীয় টেষ্ট বাতিল করেছে বলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে।

মূল সন্দেহভাজন ব্রেন্টন ট্যারান্টসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে যা সন্ত্রাসী নিজেই করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভিডিওতে আল নুর মসজিদ পর্যন্ত গাড়ী চালিয়ে যাবার ১৭ মিনিটের দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। তবে পুলিশ ভিডিওটি না ছড়াবার অনুরোধ জানিয়েছে। পুলিশের বরাতে নিউজিল্যান্ড হ্যারল্ড জানায় যে সন্ত্রাসীর নাম ব্রেন্টন ট্যারান্ট (২৮), সে একজন অস্ট্রেলীয় অভিবাসী।

ভিডিওটির একটি চিত্র
ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে বন্দুকধারী সন্ত্রাসীর গোলাগুলির এই ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা। ওই মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন তারা। ঘটনার পর টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল এক টুইটে নিজেদের নিরাপদে থাকার কথা জানিয়েছেন।
শুক্রবার, ১৫ মার্চ, ২০১৯, নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে সেন্ট্রাল ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ আল নূরে এক বন্দুকধারী হামলা করে। মসজিদে তখন জুমার নামাজ চলছিল। সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলার জন্য ক্রাইস্টচার্চে ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম। হ্যাগলি ওভাল মাঠে তারা অনুশীলন করছিলেন। মাঠের পাশেই ওই মসজিদেই জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন তামিম ইকবালসহ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কয়েকজন সদস্য।

গোলাগুলির পর বাংলাদেশ দলের সদস্যদের ত্রস্ত পায়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে দেখা যাচ্ছে।
ক্রিকইনফোর সংবাদদাতা মোহম্মদ ইমাম টুইটে বাংলাদেশ দলের সকলে নিরাপদ আছে, নিশ্চিত করেছেন।
তামিম টুইটে লিখেছেন, বন্দুকধারীর গুলি থেকে আমরা পুরো দল বেঁচে গেছি। এটা খুবই ভীতিজনক একটি অভিজ্ঞতা। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।
বিস্তারিত আসছে …….