প্রথম টেস্ট হেরে সিরিজে সমতায় আসার শেষ টেস্টে জিম্বাবুয়েকে ২১৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারালো মাহমুদুল্লাহ’র নেতৃত্বে থাকা বাংলাদেশ। এই টেস্ট জয়ে সাত টেস্ট পর টেস্টে জয়ের ধারায় ফিরলো বাংলাদেশ।
আজ পঞ্চম দিনে বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিলো ৭ উইকেট। প্রথম সেশনে শন উইলিয়ামস ও সিকান্দার রাজার উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের সুবাতাস ধরে রাখে বাংলাদেশ। কিন্তু ঐ অবস্থায় প্রতিরোধ গড়ে তুলেন আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান টেইলর ও মুর। স্কোরবোর্ডে ৪ উইকেটে ১৬৪ রান যোগ করে বিরতিতে যান।
মধ্যাহ্ন ভোজনের বিরতির পরও আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে ব্যাট করতে থাকেন দুজন। তাই সাফল্য পেতে ধৈর্য ধরতে হয় সফরকারী দলের বোলারদের। ইনিংসের ৭২তম ওভারে ধরা দেয় কাঙ্ক্ষিত সেই সাফল্য। মিরাজের বলে ইমরুল কায়েসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ১৩ রানে মুর আউট হলে দলীয় ১৮৬ রানে পতন ঘটে জিম্বাবুয়ের পঞ্চম উইকেটের।
৬৬ রানের এ জুটির ভাঙ্গনের পর খেলায় ছন্দ হারায় সফরকারীরা। মুমিনুল হকের দুর্দান্ত থ্রোতে রেগার্স চাকাভা ও মিরাজের বলে লিটন দাসের দুর্দান্ত ক্যাচে দলীয় ২০১ রানে ডোনাল্ড ত্রিরিপানোর আউটে জিম্বাবুয়ের সপ্তম উইকেটের পতন ঘটলে ম্যাচ বাঁচানোর আশা ফিকে যায় সফরকারীদের। অন্য প্রান্ত আগলে রেখে প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও শতক তুলে নেন টেলর। ২০১৩ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ইনিংসে শতকের পর প্রথম জিম্বাবুয়ান ক্রিকেটার হিসেবে দ্বিতীয়বারের এমন কীর্তি গড়লেও দলের হার এড়াতে পারেননি তিনি।
ব্রেন্ডন মাভুতাকে চতুর্থ শিকারে পরিণত করার পর জার্ভিসের উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিয়ারে এক ইনিংসে পঞ্চমবারের মতো পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন মিরাজ। শেষ পর্যন্ত টেলর অপরাজিত থাকেন ১০৬ রানে। বাংলাদেশের বাকি বোলারদের মধ্যে তাইজুল শিকার করেন দুটি উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড:
বাংলাদেশ: প্রথম ইনিংসে ৫২২/৭ ডিক্লেয়ার।
মুশফিক ২১৯*, মুমিনুল ১৬১, মিরাজ ৬৮*, মাহমুদউল্লাহ ৩৬; জার্ভিস ৭১/৫।
জিম্বাবুয়ে: প্রথম ইনিংসে ২১৩/৯।
টেলর ১০৬, মুর ৮৩, চারি ৫৩; তাইজুল ১০৭/৩, মিরাজ ৬১/৩।
বাংলাদেশ: দ্বিতীয় ইনিংসে ২২৪/৬ ডিক্লেয়ার।
মাহমুদউল্লাহ ১০১*, মিঠুন ৬৭; জার্ভিস ২৭/২।
জিম্বাবুয়ে: দ্বিতীয় ইনিংসে ২২৪/৯।
টেলর ১০৬*, চারি ৪৩; মিরাজ ৩৮/৫, তাইজুল ৯৩/২।
বাঙালীয়ানা/জেএইচ