বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়ন নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে নিজেরা হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে তা বিনামূল্যে ঝুঁকিতে থাকা পেশাজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষদের কাছে বিতরণ করছে।
বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম বাঙালীয়ানাকে জানান যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির শহীদ মুনীর চৌধুরী কনফারেন্স হল ও তার সামনের জায়গায় এসব হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি, রসায়ন ও প্রাণ রসায়নের শিক্ষার্থীদের ২৫ জনের একটি দল প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এগুলো তৈরি করছেন। শুক্রবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম নগরীর চেরাগী পাহাড়ে যুব ইউনিয়নের অস্থায়ী কার্যালয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

নিম্ন আয় ও শ্রমজীবী মানুষের মাঝে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই ৫০ মিলিলিটারের ৯ হাজার বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে তা বিলি করেছেন। তেজগাঁওয়ের বউবাজার বস্তি, পল্টনের হকার ও কামরাঙ্গীরচরের হাজার দেড়েক রিকশা চালক ও গ্যারেজ কর্মীকে বিনামূল্যে এই হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফরিদপুর, মৌলভীবাজার ও শরীয়তপুরে নিম্ন আয়ের মানুষদের মাঝে তা বিতরণ করা হয়েছে।

নিম্ন আয় ও শ্রমজীবী মানুষের মাঝে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করার আরেকটি দৃশ্য।
ঢাকায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে রোগীদের যে চারটি হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। করোনাভাইরাস সংক্রান্ত খবর সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা টেলিভিশন সাংবাদিকদের একটি অংশও তাদের কাছ থেকে এই জীবাণুনাশক নিয়েছেন।
চট্টগ্রামে তৈরি এক হাজার হ্যান্ড স্যানিটাইজার শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রামের নিম্ন আয় ও শ্রমজীবী মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে বলে যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম সূত্র জানিয়েছে।

হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরীতে ব্যস্ত ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের কর্মীরা।
দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে আর এ পরিস্থিতিকে পুঁজি করে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী জীবানুরোধক এ পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অধিক মুনাফায় মানুষের কাছে বিক্রি করছে। আর এই অসাধু ব্যবসায়ীদের রুখে দিতে এবং বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতেই ইউনিয়ন এই কর্মকান্দ হাতে নিয়েছে বলে জানালেন যুব ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম।
নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল ৭০%, গ্লিসারিন, লেমন ওয়েল ও ডিস্টিলড ওয়াটার ব্যবহার করে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়। সেখানে শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে কাজ করা শিক্ষার্থীদের একটি অংশ, যারা ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত, তারা এসে এখানে এই কার্যক্রম শুরু করেন।

বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম উপস্থিত রয়েছেন এ কর্মকান্ডে।
এর অর্থায়ন প্রসঙ্গে মাসুম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে কিছু কিছু সহায়তা আমরা পেয়েছি। সেগুলো দিয়েই উপকরণগুলো কিনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করা হচ্ছে। খান আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, সকলের সহযোগিতা পেলে আমরা অন্তত ১০ লাখ বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরী করবার পরিকল্পনা নিয়েছি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় দুর্যোগ যেমন ঘূর্ণিঝড়, বন্যার সময় প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা গেছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়নের কর্মীরা। পাকিস্তান শাসনামলে ১৯৭০ এর ঘূর্ণিঝড়সহ ৭৪ এর দুর্ভিক্ষ, উড়িরচরের ঝড়, যেখানেই সাইক্লোন টর্নেডো হয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়নের কর্মীরা ঝাঁপিয়ে পরেছেন দুর্গতদের সাহায্যে। ১৯৮৭-৮৮ -র প্রবল বন্যায় এই ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়নের কর্মীরাই সারাদেশে দুর্গতদের জন্যে হাত রুটি ও খাবার স্যালাইন বানিয়ে বিতরণ করে বিপন্ন মানবতার সাহায্যে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
বাঙালীয়ানা/এসএল