।। লুৎফুল হোসেন ।।

গত সাত দিনে সবচেয়ে সফল গুজব সৃষ্টিকারীরা। কারণ তারা তাদের মরিয়া প্রচেষ্টায় বাস্তবতাকে সেই গুজবের সীমানায় নামিয়ে এনে আমাদের সন্তানদের অভূতপূর্ব অর্জনকে ধুলিস্যাৎ করতে সক্ষম হয়েছে।

সবচেয়ে ব্যর্থ রাষ্ট্রযন্ত্র। কারণ রাষ্ট্র আমাদের সুবর্ণ সন্তানদের অনন্য আত্মোন্মোচনকে যথাযথ মূল্যায়ন করে অর্ধ শতাব্দীর পুরোনো ক্ষত সারাতে এই শিশুদের কাঁধে হাত রেখে সত্যিকার অর্থে পাশে এসে দাঁড়াতে সক্ষম হয়নি।

সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এই যে, আমরা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট ভাবে জানতে পেরেছি, অনিয়ম আমাদের মাঝে এমন দৃঢ় শিকড় গেড়েছে যে আমাদের দেশে আইনের প্রয়োগকারী ও রক্ষাকারীরাই সবচেয়ে বেশি হারে আইন ভঙ্গ করছে।

সবচেয়ে দুঃখজনক এই যে, আমরা বড়রা যা পারিনি বরং অক্ষমতার শিকল পরে বসে আছি, তাদের চোখে আঙুল দিয়ে আমাদের ভুল ধরিয়ে দেয়া সন্তানদেরকে এই অনন্য সাফল্যের পুরষ্কার স্বরূপ নিগৃহীত হতে হয়েছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ এই যে, আমরা ধারণাও করতে পারছি না এ সূর্য সন্তানদের অনন্য সাফল্যের গায়ে ব্যর্থতার কালিমা লেপনের দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল কি হতে পারে।

গভীরতম বেদনা এই যে, আমরা এমনই অন্ধ ও দৃষ্টি অক্ষম হয়েছি যে, আমাদের পাশে এসে যারা গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্ত করতে তৎপর হয়েছে তাদেরকে চিনতে ও থামাতে এক বিন্দু সক্ষম হতে পারিনি।

তারপরও শান্তনা এই যে, আমাদের ভ্রান্তিগুলো আমাদের চোখের সামনে দৃশ্যমান হয়েছে। চাইলে এখনো আমরা ভুলগুলো শুধরে সামনে এগোবার পথ তৈরি করে নিতে পারি।

আর রাষ্ট্রের অবশ্য করণীয় এই যে, এদেশের শিশুরা যে অন্ধকারকে চোখের সামনে দৃশ্যমান করে দিয়েছে তার প্রতি কণা অন্ধকার যেনো সমূলে দূর করা হয়৷ একটা অনিয়মও যেনো এদেশের পথে আর না ঘটে। একটা অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণও যেনো এদেশের পথে আর না ঝরে যায়।

সেই সাথে আমজনতার আকাঙ্ক্ষা হেলমেট বাহিনীর রহস্য এবং হেলমেটের ও নানা রকম মুখোশের ভিতর লুকানো মুখগুলো যেনো রাষ্ট্রব্যবস্থার আন্তরিকতায় উন্মোচিত হয়। নিষ্পাপ শিশুদের নিগ্রহের শিকড় এবং চক্রান্তকারীরা যেনো চিহ্নিত হয়।

এতো বেদনাহত ও বিচলিত হবার মতো সময়ে তবু আনন্দের এই যে, আমার সন্তান ও তার প্রজন্মকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে ওরা দেখিয়ে দিলো যে, ওরা সক্ষম, আমাদের চেয়েও সক্ষম। এমন কি আমরা যেখানে অক্ষম ও ব্যর্থ সেখানেও তারা অবলীলায় সক্ষম।

আমাদের দায়, আমরা যেনো আমাদের উত্তরাধিকারের এই অর্জনকে কোনো ভাবে বিফলে যেতে না দিই। আমরা যেনো আজকের চিহ্নিত বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী গুজব রটনাকারীদের কঠিনতম শাস্তিটি নিশ্চিত করতে এক বিন্দু ভুল না করি।

সকল অসত্য, অনিয়ম ও চক্রান্ত চিরতরে নির্মুল হোক।
সত্যের জয় হোক। মানুষের জয় হোক।

০৭ আগস্ট ২০১৮

লেখক পরিচিতি:

Lutful Hossain

লুৎফুল হোসেন: কবি ও লেখক

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.