কে এই ইমরান খান নিয়াজি । জুয়েল আইচ

Comments

ইমরান খান নিয়াজি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের জন্য এক অশনি সংকেত।

১৯৭১ সাল

২৫ মার্চ রাত। বাংলার ৩০ লক্ষ মানুষ হত্যার মূল রূপকার ইমরানের চাচা জেনারেল নিয়াজিকে ঢাকায় রেখে ইমরান খান নিয়াজি প্লেনে ওঠেন। ৭১ এর বিভিষিকা সৃষ্টিকারী জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে একই প্লেনে চড়ে তিনি ইসলামাবাদ যান।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। বিভৎস হায়েনা নিয়াজি ছুঁচো হয়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়। ইমরান খান নিয়াজির পুরো পরিবার ক্রোধে নিজেদের চুল ছিঁড়তে থাকে। ওরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একের পর এক চক্রান্ত করতে থাকে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঘটাতে সক্ষম হয় নানা ভয়াবহ ঘটনা। কারণ

‘সব দেশেরই আর্মি থাকে।
কিন্তু একমাত্র পাকিস্তান আর্মিরই একটি দেশ আছে।’

সেই আর্মিরই ক্রীড়নক এই নিয়াজি জুনিয়র ইমরান খান।

ইমরান খান নিয়াজি বড় ক্রিকেটার। তার চেয়েও বড় প্লেবয়। বালক বয়স থেকেই সে ধূর্ত কৌশলে মেয়েদের পটানোয় ওস্তাদ। অসংখ্য নারী ও পুরুষের সংগে তার যৌন সম্পর্কের কথা মানুষ জানে। এমনকি তেহরিক-ই-ইনসাফ দলের নারী সদস্যরা তার বিছানায় না গেলে পদ পায় না। এই সমস্ত কারণে তিন স্ত্রীর কেউই তার সংগে টিকতে পারেনি।

১৯৮০ সাল

পাকিস্তান ক্রিকেট দল বাংলাদেশে আসে ফ্রেইন্ডলি ক্রিকেট খেলতে। প্লেবয় ক্রিকেটার ইমরান খান নিয়াজির ভক্ত অতি উৎসাহী তরুণীরা তাদের স্বাগত জানাতে এয়ারপোর্টে যান। তারা পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ফুলের মালা দিতে এগিয়ে গেলে ওরা তা ছিড়ে ফেলে। শুরু থেকেই তারা বাঙালীকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে নানা কুৎসিত কথা বলতে থাকে। বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সম্মানিত নেতারা এগিয়ে গেলে তারা সালামের জবাবে “নমস্তে” বলে সালাম প্রত্যাখ্যান করে। ক্রমেই তাদের বিদ্রূপ ঘৃনা বাঙালীর সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়। চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে তা আরো প্রকট আকারে প্রকাশ পায়। খেলার মাঝে চা বিরতির সময় কিছু অতি সাধারণ নিরিহ বাঙালী ‘মছুয়া’ মানে ওদের গাল, ‘মাছ খেকো বাঙালী’ যুবক নীরবে ওদের ড্রেসিং রূমে ঢুকে পড়লে তারা যথারীতি নোংরা গালাগাল শুরু করে। ব্যাস শুরু হয় গেরিলা কায়দার মার। তাতে পাকিস্তান দলের স্পিনার ইকবাল কাসেমের হাত ভেঙে যায়। ইমরান খান নিয়াজিসহ প্রায় সবাই আহত হয়। খেলা ওখানেই শেষ হয়ে যায়। ইমরান খান নিয়াজি তার চাচা জেনারেল নিয়াজির মত আবারো আহত চিতাবাঘের মত ফুসতে থাকে।

১৯৮৬ সাল

শ্রীলংকাতে এশিয়া কাপে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ক্রিকেট যুদ্ধ। ওদের ক্যাপ্টেন ইমরান খান নিয়াজি বাঙালীকে এতই ঘৃনা করেন যে বাংলাদেশের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে দাড়িয়ে টস করতেও অস্বীকার করেন।

১৯৯৬ সাল

কট্টর তালেবানপন্থী ইমরান তেহরিক-ই-ইনসাফ তৈরী করে এবং বাংলাদেশপন্থী সাজার প্রতারণা করে। কিন্তু মুখোশ খুব দ্রুত খুলে যায়। তার চাচা বাংলাদেশে যে ৩০ লক্ষ মানুষ হত্যা করেছেন তা সব ” ঝুট হ্যায়” বলে জোর প্রোপাগান্ডা করতে থাকে।

২০০২ সাল

ইমরান খান নিয়াজি ইউনিসেফ এর শুভেচ্ছা দূত হয়ে বাংলাদেশে এসেছিল। ইউনিসেফ তখন আমার একক জাদু প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল হোটেল সোনারগাঁও এ। আমার ‘বাক্সেবন্দি’ জাদুতে তিনিও মঞ্চে উঠে এলেন। প্রাণপণ চেষ্টা করেও ইমরান আমায় ফাঁদে ফেলতে পারল না। অন্য সবাই আনন্দ উল্লাসে ফেটে পড়লেন। কিন্তু ইমরান এটাকে পরাজয় হিসেবে নিল। মুখে কোন হাসি বা প্রশংসা ছিল না। পরে ফটো সাংবাদিকদের তোলা ছবিতেও তা ধরা পড়েছে। এখানে তেমনি একটা ছবি দিলাম। আমি হাসছি, ইমরান গম্ভীর।

সোনারগাঁও হোটেলে

২০১২ সাল

বাংলাদেশ যুদ্ধাপরাধীদের দন্ড কার্য্যকর করা শুরু করলে ইমরানের বিভৎস দাঁত নখ বেরিয়ে পড়ে। তার চাচা জেনারেল নিয়াজিসহ সব যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে জোর প্রচারে নামে। পাকিস্তান পার্লামেন্টে নিন্দা প্রস্তাব আনে। এমনকি সরাসরি মিথ্যা ও অপপ্রচারে ভরা অভিযোগ করে বাংলাদেশ সরকারের কাছে তীব্র নিন্দা জানায়।

২০১৫ সাল

বাংলাদেশের ক্রিকেট দল পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ করে হারিয়ে দিলে ইমরান উন্মাদের মত চিৎকার করে উঠলেন,”অকল্পনীয়” ( unimaginable)!

২০১৭ সাল

ক্রিকেটে বাংলাদেশ দল নিউজিল্যান্ডকে পরাজিত করে। ইমরান ঘৃনার সঙ্গে বলেন, ” বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠে চ্যাম্পিয়ন ট্রফির সৌন্দর্য্যই নষ্ট করে দিয়েছে। ”

২০১৮ সাল

ইমরান রাজনীতির পাতানো খেলায়ও এবার জয়ী হলো। ব্যর্থ রাষ্ট্র পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর পুতুল সরকার যেক’টা দিন মসনদে থাকবে ততদিন বাংলাদেশকে যে এক হাত নেওয়ার চেষ্টা চালাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

লেখক পরিচিত:

জুয়েল আইচ

জুয়েল আইচ,  মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রখ্যাত জাদুশিল্পী

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.