মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নিখোঁজ সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে। আজ শনিবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
শনিবার ২১ মার্চ ২০২০ সকালে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রকাশিত একটি সিসিটিভি ফুটেজে এমন দৃশ্য ধরা পড়েছে। এ বিষয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ক্যাম্পেইনার সাদ হাম্মাদি বলেছেন, সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের সন্দেহজনক আচরণ স্পষ্টতই প্রমাণ করে কাজলের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্ত শুরুর মাত্র একদিন পরই তাকে অনুসরণ করা হচ্ছিল। ওইদিনের পর থেকেই আর তার দেখা মেলেনি এবং তার ভাগ্যে কী ঘটেছে বা কোথায় আছেন কিছুই জানা যায়নি।
অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়া ক্যাম্পেইনার সাদ হাম্মাদি বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের সন্দেহজনক আচরণ স্পষ্টতই প্রমাণ করে কাজলের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্ত শুরুর মাত্র একদিন পরই তাকে অনুসরণ করা হচ্ছিল। ওই দিনের পর থেকেই আর তার দেখা মেলেনি এবং তার ভাগ্যে কী ঘটেছে বা কোথায় আছেন কিছুই জানা যায়নি।’
‘কাজল কোথায়, কী অবস্থায় আছেন তা শিগগির বের করতে এবং যদি রাষ্ট্রীয় হেফাজতে রাখা হয়ে থাকে তাহলে দেরি না করে তাকে মুক্তি দিতে আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি’, বলেন সাদ হাম্মাদি।
এই সিসিটিভি ফুটেজ প্রসঙ্গে নিখোঁজ সাংবাদিকের ছেলে মনোরম পলক বাঙালীয়ানাকে বলেন, ‘এই ফুটেজ তো পুলিশের কাছে আগে থেকেই আছে, কিন্তু তারা এই সূত্রে কোন তদন্ত করছে বলে জানি না’। তিনি আরো বলেন, ‘মামলা দায়েরের পরে পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের বাসায় রুটিন ভিসিট করে গেলেও এরপর ৪দিন পেরিয়ে গেছে কোন খবর জানি না’।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুদ হাওলাদার সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এর ভিত্তিতে আমরা কাজ করছি। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি শফিকুল ইসলাম কাজলের খোঁজ পাবার এবং সেই মোতাবেক উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করছি তবে এই মুহুর্তে আপনাদের এর বেশী আমি আর কিছু বলতে পারছি না’।
সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল নিখোঁজ হওয়ার আগে সর্বশেষ যেদিন দেখা গিয়েছে, সেদিন কয়েকজন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি তার মোটরবাইকের আশেপাশে ঘোরাঘুরি এবং বাইকে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু করতে দেখা যায়।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, ১০ মার্চ বিকাল ৪টা ১৪ মিনিটে মোটরবাইকে করে বাংলা পত্রিকা ‘দৈনিক পক্ষকাল’ এর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজল ঢাকার হাতিরপুলে মেহের টাওয়ারস্থ তার অফিসে পৌঁছান। এরপর কাজল ঘটনাস্থল ত্যাগের আগ পর্যন্ত বাইকটির আশপাশে বেশ কয়েকজন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিকে প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়।
বিকাল ৫টা ৫৯ মিনিট থেকে ৬টা ৫ মিনিটের মধ্যবর্তী ৬ মিনিট সময়ে তিনজন ব্যক্তি আলাদা আলাদাভাবে মোটরবাইকটির কাছে যায় এবং সেটিতে বাইকে কিছু একটা করে। এরপর ৬টা ১৯ মিনিটে কাজলকে অন্য একজন ব্যক্তির সঙ্গে অফিস থেকে বের হয়ে নিজের বাইকের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়। পরে তিনি ফিরে আসেন এবং সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে একা বাইকে চড়ে চলে যান। এটাই ছিল তাকে প্রকাশ্যে সর্বশেষ দেখা যাওয়ার মুহূর্ত।
উল্লেখ্য, দৈনিক সমকাল ও বণিক বার্তার সাবেক ফটো সাংবাদিক, ‘পক্ষকাল’ পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজল ১০ মার্চ দুপুর ৩টায় বাসা থেকে বের হন। এরপর তার সাথে পরিবারের কোন যোগাযোগ নেই। মঙ্গলবার রাত ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষার পরও বাসায় না ফেরায় তার পরিবার তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন বন্ধ পায়। এর পরদিন ১১ মার্চ সকালে কাজলের পরিবার একটি সাধারণ ডায়েরি এবং পরে ১৮ মার্চ একটি মামলা দায়ের করে চকবাজার থানায়।
এদিকে ৯ মার্চ শেরেবাংলা নগর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে মাগুরা-১ আসনে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শেখর যে মামলা করেছেন সে মামলায় শফিকুল ইসলাম কাজলকে তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ ২০১৯ সালে অন্তত ৩৪ জন ব্যক্তি গুম হওয়ার অভিযোগ নথিবদ্ধ করেছে। এদের মধ্যে পরবর্তীতে ৮ জনের লাশ পাওয়া গেছে, ১৭ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং বাকি ৯ জনের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনও অজানা।
বাঙালীয়ানা/এসএল
এ প্রসঙ্গে আরও পড়ুন:
৫ দিনেও পাওয়া গেলো না ফটো সাংবাদিক কাজলের সন্ধান
৮ দিনেও কাজলের সন্ধান মেলেনি, পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ