খাসোগি হত্যাকান্ডে তুরস্কের বিস্তারিত জবাব

Comments

আলোচিত ‘খাসোগি হত্যা’ কান্ডে প্রথমবারের মত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করলো। সৌদি আরবের প্রধান কৌঁসুলি শেখ সৌদ আল-মোজেব ইস্তাম্বুল ছাড়ার কয়েকঘন্টা পর হত্যাকান্ড সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ করেন তুরস্কের প্রধান কৌঁসুলি ইরফান ফিদান। উল্লেখ্য, খাসোগি হত্যার বিষয়ে কথা বলতেই তুরস্ক গিয়েছিলেন সৌদি প্রধান কৌঁসুলি।

তুরস্কের প্রধান কৌঁসুলি জানান, সাংবাদিক জামাল খাসোগি ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ কেটে টুকরো টুকরো করে সরিয়ে ফেলা হয়। পুরো হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্ব পরিকল্পিত।

সংবাদ সংস্থা এএফপি তুর্কি কৌঁসুলি ইরফান ফিদানের কার্যালয় থেকে বিবৃতি দিয়ে জানায়, সৌদি আরবের প্রধান কৌঁসুলি সঙ্গে তুর্কি কর্মকর্তাদের আলোচনায় ‘সুনির্দিষ্ট কোনো ফল’ না আসায় খাসোগি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত প্রকাশ করা ‘আবশ্যকীয়’ হয়ে পড়েছে। তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হলো। বিবৃতিতে বলা হয়, খাসোগি কনস্যুলেট ভবনে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। খাসোগি তার বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেতে ওই কনস্যুলেটে ঢুকেছিলেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সৌদি প্রধান কৌঁসুলির সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। আমরা আসল সত্য প্রকাশ করার জন্য খোলা মন নিয়ে বৈঠকে বসি। কিন্তু বৈঠকে কোনো সুনির্দিষ্ট ফল পাওয়া যায়নি।'জামাল খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছে' - দাবি তুরস্কের

উল্লেখ্য, সৌদি আরবের প্রধান কৌঁসুলি শেখ সৌদ আল-মোজেব গত রোববার, ২৮ অক্টোবর, রাতে ব্যক্তিগত বিমানে ইস্তাম্বুল পৌঁছান। খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে তিনি আলোচনা করেন তুর্কি তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গেও।

২ অক্টোবর, ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেট ভবনে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজ সংগ্রহের জন্য গিয়েছিলেন সাংবাদিক খাসোগি। তখন কনস্যুলেট ভবনের বাইরে অবস্থান করছিলেন খাসোগি’র বাগদত্তা। কিন্তু কনস্যুলেট ভবন থেকে খাসোগি আর বের না হওয়ায় সন্দেহ বাড়ে। পরে জানা যায়, খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছে।

তুরস্ক এই ঘটনায় প্রথম থেকেই দাবী করে এসেছিলো খাসোগিকে কনস্যুলেট ভবনে ঢোকার সাথে সাথে হত্যা করা হয় এবং তার দেহ টুকরো টুকরো করে সরিয়ে ফেলা হয়। এই ধারণাও প্রকট হয় যে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ জড়িত আছেন এই হত্যাকান্ডে। সালমান ক্ষমা চাইলো খাসোগির ছেলের কাছে

গত বছরের জুনে যুবরাজ মোহাম্মদ ক্ষমতা নেওয়ার পর দেশ ছেড়ে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান খাসোগি। তিনি ওয়াশিংটন পোস্টে কলাম লিখতেন। সেখানে তিনি সৌদি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছিলেন।

খাসোগি নিখোঁজ হওয়ার ১৭ দিন পর প্রথমবারের মতো এক বিবৃতিতে খাসোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করে সৌদি আরব। তবে দেশটি প্রথমে খাসোগির মৃত্যুর ব্যাখ্যায় বলে, কনস্যুলেট ভবনে কয়েকজন সৌদি নাগরিকের সঙ্গে ‘হাতাহাতির’ ঘটনায় খাসোগি মারা যান। পরে ওই বিবৃতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ‘হাতাহাতির সময় মৃত্যু’ থেকে সরে আসে সৌদি। পরে দেশটির পক্ষ থেকে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে বলা হয়, খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছে, তবে তা পূর্বপরিকল্পিত নয়। এ ব্যাখ্যাও ধোপে টেকেনি। পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেছে যে খাসোগিকে ভেবেচিন্তেই খুন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ১৮ সৌদি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে সৌদি আরব। তবে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট দাবী করেছেন, যেহেতু হত্যাকান্ড তুরস্কে ঘটেছে তাই অভিযুক্তদের যাতে তুরস্কের কাছে হস্তান্তর করা হয়। যদিও এই দাবী প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব।

বাঙালীয়ানা/জেএইচ

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.