ভারতের রাজধানী দিল্লীতে দমবন্ধ করা পরিস্থিতি। দূষণের পরিভাষায় ‘সিভিয়ার প্লাস’ অবস্থার জেরে এবার দিল্লীতে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি (পাবলিক হেলথ্ এমার্জেন্সি) অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
দিল্লীর এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ৫ নভেম্বর, ২০১৯ পর্যন্ত রাজধানী এবং সংলগ্ন এলাকায় সমস্তরকম নির্মাণকার্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। গোটা শীতকালে কোথাও বাজি পোড়ানো যাবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে তারা। জানুয়ারীর পর এই প্রথম রাজধানীর পরিস্থিতি এত ভয়ঙ্কর হল বলে আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে।
এয়ার কোয়ালিটি বা বাতাসের গুণমাত্রা নজরদারি সংস্থা ‘সফর’ এর সূত্রে গণমাধ্যম জানিয়েছে, ‘পড়শি দুই রাজ্য পাঞ্জাব এবং হরিয়ানায় ফসলের গোড়া পোড়ানোর জেরে দু’দিনে দিল্লীতে দূষণের পরিমাণ ২৭ শতাংশ বেড়ে গেছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বাওয়ানার, যেখানে একিউআই ৫০০-র উপরেই রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দিল্লী টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি, ওয়াজিরপুর, আনন্দ বিহার এবং বিবেক বিহার এলাকায় একিউআই বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৫০০, ৪৮৫, ৪৯৮ এবং ৪৮২-তে। অন্য দিকে, দিল্লি সংলগ্ন উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে ভাসমান ধূলিকণার (পিএম ২.৫) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রতি ঘনমিটারে ৪৯৩ মাইক্রোগ্রাম। গ্রেটার নয়ডা, নয়ডা এবং ফরিদাবাদে এই পরিমাণ যথাক্রমে ৪৮০, ৪৭৭ এবং ৪৩২ মাইক্রোগ্রাম।

দিল্লীর রাস্তায় স্কুলের শিশুরা
দূষণের কারণে ৫ নভেম্বর, ২০১৯, পর্যন্ত দিল্লীর সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লী সরকার। তবে রাজধানীর এমন পরিস্থিতির জন্য পড়শি দুই রাজ্য পঞ্জাব ও হরিয়ানাকেই দুষেছেন দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল। তাঁর অভিযোগ, ইচ্ছাকৃত ভাবে কৃষকদের ফসলের গোড়া পোড়াতে বাধ্য করছে ওই দুই রাজ্যের সরকার। তার জেরেই ধোঁয়ায় ‘গ্যাস চেম্বার’-এ পরিণত হয়েছে রাজধানী।
শুক্রবার, ১ নভেম্বর, ২০১৯ সকালে টুইটারে এমন অভিযোগ তোলেন অরবিন্দ কেজরীওয়াল। তিনি আরও বলেন, ‘এই বিষাক্ত বাতাস থেকে নিজেদের বাঁচানো প্রয়োজন। তাই আজ সরকারি এবং বেসরকারি স্কুলগুলিতে ৫০ লক্ষ মাস্ক বিতরণ করছি আমরা।’
খবর ও ছবি সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
বাঙালীয়ানা/এসএল