পিছমোড়া হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নেয়া সাংবাদিক কাজলকে জামিন দিল আদালত

Comments

২ মাস ধরে নিখোঁজ সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তে পাবার পর তাকে অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে বিজিবির করা মামলায় পিছমোড়া করে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে যশোরের আদালতে পাঠায় পুলিশ।

রবিবার, ৩ মে, ২০২০ বিকেল ৩টায় পিছমোড়া করে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে আদালতে নিয়ে আসার এ ঘটনায় সাংবাদিক ও সচেতনমহলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। যশোরের আইনজীবী মাহমুদ হাসান বুলু গণমাধ্যমকে বলেন, সাংবাদিক কাজলের নিখোঁজের ঘটনায় দেশি বিদেশি মিডিয়ার কল্যাণে দেশের বহু মানুষ তার সম্পর্কে জেনেছে। তিনি পালিয়ে যাওয়ার মতো মানুষও নন। তার সঙ্গে এমন আচরণ শোভনীয় নয়।

এদিকে যশোর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে বিজিবির করা মামলায় শফিকুল ইসলাম কাজলকে জামিন দিয়েছে। কাজলের ছেলে মনোরম পলক বাঙালীয়ানাকে বলেন, ‘আদালত বাবাকে জামিন দিয়েছে। বাবা এখন পুলিশের হেফাজতেই আছেন। আমরা আদালতের লিখিত আদেশের অপেক্ষা করছি।’

Shafiqul Islam Kajal03

পুলিশের হেফাজতে পিছমোড়া করে হ্যান্ডকাফ পরা সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল

এদিন সকালে সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের সন্ধান বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তে পাবার পর তাকে উদ্ধার করে অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে একটি মামলা করে বিজিবি। বেনাপোলের রঘুনাথপুর বিজিবি ক্যাম্প তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের আইনে মামলা দিয়ে বেনাপোল থানায় সোপর্দ্য করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে যশোরের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলা নম্বর-৫।

বিজিবির পক্ষ থেকে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রঘুনাথপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার পথে শফিকুল ইসলাম কাজল আটক হন। তার কাছে কোনো পাসপোর্ট ছিল না। বিনা পাসপোর্টে অনুপ্রবেশের অভিযোগে পাসপোর্ট আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দৈনিক সমকাল ও বণিক বার্তার সাবেক ফটো সাংবাদিক, ‘পক্ষকাল’ পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজল ১০ মার্চ দুপুর ৩টায় বাসা থেকে বের হন। এরপর তার সাথে পরিবারের কোন যোগাযোগ নেই। মঙ্গলবার রাত ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষার পরও বাসায় না ফেরায় তার পরিবার তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন বন্ধ পায়। এর পরদিন ১১ মার্চ সকালে কাজলের পরিবার একটি সাধারণ ডায়েরি এবং পরে ১৮ মার্চ একটি মামলা দায়ের করে চকবাজার থানায়।

এদিকে ৯ মার্চ শেরেবাংলা নগর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে মাগুরা-১ আসনে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শেখর যে মামলা করেছেন সে মামলায় শফিকুল ইসলাম কাজলকে তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ ২০১৯ সালে অন্তত ৩৪ জন ব্যক্তি গুম হওয়ার অভিযোগ নথিবদ্ধ করেছে। এদের মধ্যে পরবর্তীতে ৮ জনের লাশ পাওয়া গেছে, ১৭ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং বাকি ৯ জনের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনও অজানা।

বাঙালীয়ানা/এসএল

এ প্রসঙ্গে আরও পড়ুন:

৫ দিনেও পাওয়া গেলো না ফটো সাংবাদিক কাজলের সন্ধান 
৮ দিনেও কাজলের সন্ধান মেলেনি, পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ
কাজলের সন্ধান মেলেনি, সিসিটিভি ফুটেজে এরা কারা?

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.