ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২৮ কোটি টাকার সোনা আত্মসাতের অভিযোগ এনেছে সিআইডি। সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ভুটান সীমান্ত দিয়ে বেআইনি ভাবে আসা প্রায় ১৫ কিলোগ্রাম বাজেয়াপ্ত সোনা আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেছিলেন তারা।
উল্লেখ্য, বিগত কয়েক মাস ধরেই ভুটান সীমান্ত দিয়ে প্রচুর পরিমাণে বেআইনি সোনা ঢুকছিল। উত্তরবঙ্গের একাধিক জায়গায় এই উদ্দেশ্যে অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় শুল্ক দপ্তর (ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স)। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের থেকে পাওয়া সূ্ত্র ধরেই পরবর্তীতে তদন্তে নামে রাজ্য সিআইডি।
প্রসঙ্গত, স্বর্ণ চোরাচালানকারিরা চলতি সপ্তাহের গোড়ার দিকে প্রায় ১৫ কিলোগ্রাম বেআইনি সোনা ভুটান থেকে ভারতে পাচারের চেষ্টা চালায়। সেই পাচারকারীদের উপর নজর রাখতে গিয়ে সিআইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানতে পারেন, পাচারের উদ্দেশ্যে আনা স্বর্ণ ইতোমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করেছে রাজ্য পুলিশের এক কর্মকর্তা কিন্তু সরকারিভাবে সেই সোনা বাজেয়াপ্ত দেখানো হয়নি।
এই তথ্য পাওয়ার পর থেকেই দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ও বাকি সন্দেহভাজনদের উপর ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, থেকে নজরদারি চালাচ্ছিল রাজ্য সিআইডি। অভিযুক্ত দুজন হলেন আলিপুরদুয়ার জেলার জয়গাঁও থানার এসডিপিও অনিরুদ্ধ ঠাকুর এবং বারোবিষা থানার ওসি কমলেন্দ্র নারায়ণ। তাঁদের গতিবিধির উপর নজর রাখতে গিয়েই সিআইডি জানতে পারে ওই ২৮ কোটি টাকা মূল্যের সোনা পাচারকারীদের থেকে বাজেয়াপ্ত করে আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছিলেন এই দু’জন। এই ঘটনায় শুক্রবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, রাতে এই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে আটক করা হয়।
এছাড়াও, এই ঘটনায় দেশটির সেনাবাহিনীর এক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও সেনা জওয়ানের সংশ্লিষ্টতারও প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের দু’জনেই বিন্নাগুডি় সেনা ছাউনিতে কর্মরত। হাসিমারা থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও এই পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
রাজ্য পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘‘এই দুই পুলিশ অফিসারের কাছে থেকে বেশ কিছু সোনা মিলেছে। তবে সেই সোনার উৎস কী, সেটাই আমরা খতিয়ে দেখছি, সে কারণেই তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’’
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে পুরো ঘটনা সম্পর্কে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও মুখ্যমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
বাঙালীয়ানা/এএ/এসএল