২০ বছরেও বোমা হামলার বিচার পেল না উদীচী

Comments
১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক ভয়াবহ রক্তাক্ত দিন। যে দিন যশোর টাউন হল মাঠে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে নৃশংস বোমা হামলা চালায় মৌলবাদী গোষ্ঠী। এই নৃশংস বোমা হামলায় ১০ জন নিহত হয় এবং প্রায় দুই শত মানুষ আহত হয়।

১৯৯৯ সালের ৫ ও ৬ মার্চ তারিখে যশোর টাউন হল মাঠে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রথমদিনের অনুষ্ঠান সফলভাবে সমাপনের পর ৬ তারিখ ছিলো সমাপনী অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে বাউল গানের আসরে দুই দফা বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এই হামলায় মৃত্যুর কোলে লুটিয়ে পড়েন:নূর ইসলাম, নাজমুল হুদা তপন, সন্ধ্যা রানী ঘোষ, ইলিয়াস মুন্সী, শাহ আলম বাবুল, বুলু, রতন রায়, বাবুল সূত্রধর, শাহ আলম ও রামকৃষ্ণ।

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন সে প্রসঙ্গে বলেন, “২০টি বছর ধরে এই সহযোদ্ধা হারানোর বেদনা বুকে চেপে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী তার আদর্শিক সাংস্কৃতিক লড়াই বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে। মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তার নিরন্তর সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। যাঁরা আহত হয়েছিলেন, ২০ বছর ধরে সেই ভয়াবহ স্মৃতি বহন করে এখনো তাঁরা সাংস্কৃতিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ বিনির্মাণে।”

উদীচীর বোমা হামলা মামলা প্রসঙ্গে বাঙালীয়ানার প্রশ্নের জবাবে তপন বলেন, ” ১৯৯৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর উদীচী হত্যাকাণ্ড মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামসহ ২৪ জনের নামে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। সে সময় তরিকুল ইসলামের আবেদনে উচ্চ আদালত তাঁর নাম বাদ দেয়। ২০০৬ সালের ৩০ মে যশোরের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বিচারের রায়ে এই মামলার ২৩ আসামীকে বেকসুর খালাস দেয়।”

তিনি জানান, “নিম্ন আদালতের এই রায়ের পর বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুনঃতদন্তের আবেদন করলে সিআইডিকে মামলাটির বর্ধিত তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০০৭ সালে গ্রেপ্তার হওয়া হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নান ১৯ নভেম্বর আদালতে উদীচী বোমা হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তার স্বীকারোক্তির পর পুলিশ হরকাতুল জিহাদের আরো দুই সদস্যকে আটক করে।”

তপন আরও জানান যে ২০০৯ সালে সরকার নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে সরকার পক্ষ। ২০১১ সালের ৪ মে সরকারের দায়ের করা আপিলটি বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া ও কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গ্রহণ করেন ও খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পুনরায় আত্মসমর্পণের জন্য সমন জারির নির্দেশ দেন। ২০১১ সালের ২০ জুন এ–সংক্রান্ত একটি আদেশ যশোর বিচারিক হাকিম আদালতে পৌঁছালে, ২১ জুন মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত খালাসপ্রাপ্ত ২৩ আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। এর মধ্যে তিন আসামী মহিউদ্দিন আলমগীর, আহসান কবীর হাসান ও মিজানুর রহমান মিজানের মৃত্যু হওয়ায় ২০ জন বাকি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৭ জন বিভিন্ন সময়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। আসামীদের মধ্যে শফিকুল ইসলাম মিন্টা, শরিফুল ইসলাম লিটু ও সোহরাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করায় তাঁদের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ২৪ জুলাই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। ২০১২ সালে ফেব্রুয়ারিতে এই মামলার আসামি সাইফুল ইসলাম খুন হন। একই মাসে শফিকুল ইসলাম মিন্টা আটক হন ও পরে তিনি জামিন লাভ করেন। বর্তমানে জীবিত সকল আসামি জামিনে মুক্ত আছেন।

উচ্চ আদালতে আপিলের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার কোন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি আজও বলে জানালেন জামশেদ আনোয়ার তপন।

বাঙালীয়ানা/এসএল

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.