সারা দেশে গতকাল, জুলাই ২৩, ২০১৮, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নড়াইল ও নারায়ণগঞ্জে র্যাব/পুলিশের গুলিতে ৩ জন নিহত হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নড়াইলে কথিত বন্দুকযুদ্ধ এ নিহত দুইজন ডাকাত দলের সদস্য বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে নারায়ণগঞ্জে র্যাবের গুলিতে নিহত ব্যক্তি ১৮ মামলার আসামি, বলেছে র্যাব।
মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার চেংরাকান্দি এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আগমী ফিলিং স্টেশনের উল্টো দিকে গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে বলে র্যাব -১১ এর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র এএসপি মো. আলেপ উদ্দিনের ভাষ্য।
নিহত আলমগীর হোসেন (৩৫) সোনারগাঁ উপজেলার কাচপুর বেপারীপাড়া এলাকার মানিক বেপারীর ছেলে।
র্যাব বলছে, পুলিশের ‘শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায়’ আলমগীরের নাম ছিল। এলাকার মানুষ তাকে চেয়ে ‘বিয়ার আলমগীর’ নামে। তার বিরুদ্ধে সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ১৮টি মামলা রয়েছে। র্যাব কর্মকর্তা আলেপ উদ্দিন বলেন, ইয়াবার চালান আসার খবরে তাদের একটি দল ভোরে ওই এলাকায় অভিযানে যায়।
“সেখানের ৫/৬ জন লোক র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি করে। আত্মরক্ষার্থে র্যাবও তখন পাল্টা গুলি চালায়। ১৩ মিনিট গোলাগুলি চলার পর ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক লোককে পড়ে থাকতে দেখা যায়, বাকিরা পালিয়ে যায়।” তিনি বলেন, এ অভিযানে র্যাব সদস্য হাবিলদার হাবিবুর রহমান ও কনস্টেবল মিজানুর রহমান আহত হয়েছেন এবং তাদের সোনারগারঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানান র্যাব কর্মকর্তা আলেপ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদপুরে র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ফারুক হোসেন (৩৫) নামে শিবগঞ্জ উপজেলার গোলাপ বাজার এলাকার নওশাদ আলীর ছেলে। ফারুক একটি ডাকাত দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে পুলিশের ভাষ্য।
র্যাব-৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের ডেপুটি কমান্ডার এএসপি আবু খায়ের বলছেন, সোমবার রাত দেড়টায় দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর-ত্রিমোহনী এলাকায় শিবগঞ্জ-চৌডালা সড়কে গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে।
“র্যাবের একটি টহল দল সেখানে গেলে ডাকাত দলের সদস্যরা গুলি ছোড়ে। র্যাব সদস্যরাও তখন পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলি থামার পর একজনকে সেখানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।”
নড়াইলের লোহাগড়ায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সন্দেহভাজন এক ডাকাত নিহত হয়েছে। লোহাগড়া থানার ওসি প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলছেন, সোমবার রাত ৩ টার দিকে লোহাগড়া পৌরসভার কচুবাড়িয়া এলাকায় গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, “ডাকাতদের অবস্থানের খবর পেয়ে পুলিশ রাতে কচুবাড়িয়া এলাকায় যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও গুলি চালায়। গোলাগুলি থামার পর সেখানে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।”
তিনটি ঘটনাতেই মাদক ও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।