গতকাল ঘাতক বাসের আঘাতে মৃত্যুবরণকারী নিহত শিক্ষার্থী দিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর ফকির, হাতে মৃত্যুর সময় মেয়ের হাতে থাকা ছাতাটার ভাঙ্গা অংশ। ভেঙ্গে পড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার এক টুকরো যেন ধরে আছেন সন্তানহারা এই পিতা। জানা যায়, আজ ভোরের আলো না ফুটতেই মেয়ের মৃত্যুস্হানে গিয়ে শিশুর মতো কাঁদতে শুরু করেন নিহত শিক্ষার্থী দিয়ার অসহায় জনক।
গতকাল রোববার রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। ছুটি শেষে বাসে ওঠার জন্য কলেজটির বেশকিছু শিক্ষার্থী র্যডিসন হোটেলের উল্টো পাশে সিএমএইচ স্টপেজে অপেক্ষা করছিল। এ সময় কালশি ফ্লাইওভার দিয়ে মিরপুর থেকে উত্তরাগামী একটি বাস ওই স্টপেজে এসে দাঁড়ালে সেটিতে শিক্ষার্থীরা উঠছিল। ঠিক সেই সময় যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে একই রুটের জাবালে নূরের একটি বাস দাঁড়ানো বাসটির বামপাশ দিয়ে দ্রুতগতিতে ঢুকে পড়ে এবং দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে পড়ে। বাসটির চাপায় ঘটনাস্থলেই কলেজ শিক্ষার্থী দিয়া আক্তার মিম ও আব্দুল করিম নিহত এবং আরো বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। পথচারীরা সঙ্গে সঙ্গে আহতদের নিকটস্থ কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। কুর্মিটোলা হাসপাতালের সহকারী পরিচালক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো. ছগির মিয়া দুইজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেন। সেখান থেকে গুরুতর আহত কয়েকজনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নিহতদের একজন দিয়া আক্তার মিম ও অন্যজন আব্দুল করিম। নিহত ছাত্রী দিয়ার বাড়ি মহাখালী দক্ষিণপাড়ায়। সে একাদশ শ্রেণিতে পড়তো। অন্যদিকে, আব্দুল করিম কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে পড়তো বলে জানা গেছে।
এদিকে দুই সহপাঠীর মৃত্যুর বিচারের দাবিতে আজ সকালে স্বাভাবিক শান্ত প্রতিবাদ কর্মসূচীতে বাধা পেয়ে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের কয়েকশ ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে। এছাড়াও, আরও কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা সেই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে। সেসময় বিক্ষোভকারীরা বাস ভাঙচুর করে।
তাদের বক্তব্য, বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। যেন মানুষের জীবনের কোন মূল্য নেই। বিক্ষোভ চলাকালে ভিআইপি এই সড়কের দুই পাশে সকাল ১০টার দিকে যান চলাচল থেমে যায়। প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী মানববন্ধন করে সড়কে যান চলাচল আটকে দেয়। মাঝে বৃষ্টিতে সমাবেশে বাধ সাধলেও শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে যায়নি বলে ঘটনাস্থল থেকে বাঙালীয়ানার সংবাদদাতা জানান।
শিক্ষার্থীরা ব্যানার হাতে নিয়ে তাদের সহপাঠী মিম ও করিমের হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে স্লোগান দিচ্ছে। এর আগে কলেজের সামনের রাস্তায় শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে যায়। এরপর শিক্ষার্থীরা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে দাঁড়াতে গেলে পুলিশ সেখান থেকেও তাদের সরিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে এসময় উত্তরাগামী সব বাস থামিয়ে শিক্ষার্থীদের জোর করে বাসে তুলে দিতে থাকে পুলিশ।
অন্যদিকে আজ সোমবার বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে জনস্বার্থে একটি রিট দায়ের করা হয়। ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল রিটটি দায়ের করেন। রিটে নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে।
