৯৫ বছর বয়সে চলে গেলেন রমাপদ চৌধুরী ২৯ জুলাই, ২০১৮। শেষ হয়ে গেল একটি যুগ। পিছনে পড়ে রইল দীর্ঘ কর্মমুখর সাহিত্যিক জীবন।

জন্ম ১৯২২ সালে, খড়্গপুরে কেটেছে ছোটবেলা। কলেজ জীবন কেটেছে প্রেসিডেন্সিতে, ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে তাঁর লেখালিখির শুরু, যুগান্তরে প্রকাশিত হয়েছিল জীবনের প্রথম গল্প ‘উদয়াস্ত’, তখন তিনি সদ্য যুবক। ছোটগল্প ও উপন্যাসের জগতে আলোড়ন ফেলেছিলেন তিনি প্রথম থেকেই। এই সময়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য উপন্যাস বনপলাশির পদাবলী (১৯৬০) দেশে প্রকাশিত হয়েছে ধারাবাহিক ভাবে। দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশের সঙ্গে; সম্পাদনা করেছেন রবিবাসরীয়। সাহিত্যকৃতির স্বীকৃতিস্বরূপ  পেয়েছেন নানা পুরস্কার; আনন্দ পুরস্কার, রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৭১, এখনি উপন্যাস), শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পুরস্কার, শ্রেষ্ঠ জাতীয় পুরস্কার সাহিত্য আকাদেমি (১৯৮৮, বাড়ি বদলে যায় উপন্যাস) এবং ২০১১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আন্তর্জাতিক স্মৃতি পুরস্কার।  তাঁর বিভিন্ন উপন্যাস থেকে নির্মিত হয়েছে কালজয়ী নানা চলচ্চিত্র; যেমন এখনি (তপন সিনহা, ১৯৭০), বনপলাশির পদাবলী (উত্তম কুমার পরিচালিত, ১৯৭৩), যে যেখানে দাঁড়িয়ে (অগ্রগামী, ১৯৭৪), খারিজ (মৃণাল সেন, ১৯৮২, যা জাতীয় ও  আন্তর্জাতিক স্তরে পুরস্কৃত), এক দিন অচানক (মৃণাল সেন, ১৯৮৯, বীজ উপন্যাস অবলম্বনে) এবং বহু পুরস্কৃত এক ডক্টর কি মওত (তপন সিনহা, ১৯৯২, অভিমন্যু উপন্যাস অবলম্বনে)। শেষ দুটি সিনেমা তাঁকে এনে দিয়েছিল দেশ জোড়া খ্যাতি।

আজ, ২৯ জুলাই, ২০১৮, কলকাতার এক হাসপাতালে মাত্র কয়েকদিন রোগভোগের পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি সন্ধ্যা ৬.৩০এ। তাঁর স্ত্রী, দুই কন্যা এবং পরিজনদের আমরা গভীর সমবেদনা জানাই। বাংলা সাহিত্যের মাইলফলক হয়ে আমাদের মনে চিরভাস্বর  থেকে যাবে তাঁর ছোটগল্প ও উপন্যাসগুলি।

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.