চলে গেলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়

Comments

সোমবার, ১৩ আগস্ট, ২০১৮ তারিখ ভারতীয় সংসদ এর নিম্নকক্ষ লোকসভা -র প্রথম বাঙালি স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় চলে গেলেন না ফেরার দেশে। সকাল সোয়া ৮টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। চিকিৎসার জন্য তাকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। টানা ৪০ দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর গত ১ আগস্ট তিনি বাড়ি ফেরেন। শুক্রবার থেকেই তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হতে শুরু করে। রোববার তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য সমস্যার জন্য তাকে ভেন্টিলেশনে দেয়া হয়। ডায়ালিসিসও করতে হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। সোমবার সকালে তিনি ফের হৃদরোগে আক্রান্ত হন। চিকিৎসার জানান ধকল তিনি নিতে পারলেন না।

সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে মোদি লিখেছেন- দেশের রাজনীতিতে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন এক বিরাট ব্যক্তিত্ব। সংসদীয় রাজনীতিতে তিনি ছিলেন এক বলিষ্ঠ কণ্ঠ। তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ লিখেছেন- সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে দেশ ও পশ্চিমবঙ্গ একজন বিশিষ্ট মানুষকে হারালো।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, বিশিষ্ট প্রবীণ রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও লোকসভার সাবেক স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে আমি গভীর শোকাহত। তার আত্মীয়-পরিজনসহ সব অনুরাগীকে আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।

এছাড়াও সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন দেশের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল তাকে দেশের সেরা লোকসভা স্পিকার বলে বর্ণনা করেছেন। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী টুইট করেছেন, সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন এক প্রতিষ্ঠানের মতো।

তৃণমূল সাংসদ শুখেন্দুশেখর রায় বলেন, সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে একজন প্রথিতযশা আইনজীবী হিসেবে দেখেছি। লোকসভার স্পিকার হিসেবে তার ভূমিকা ছিল অনবদ্য। লোকসভায় সব দলের সাংসদদের সমান সুযোগ তিনি দিয়েছিলেন। এখানেই তিনি অনন্য।

২০০৪ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার বিশিষ্ট সিপিএম নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে লোকসভার স্পিকারের দায়িত্ব দিয়েছিল।

সূত্র- জি নিউজ

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.