আজ সোমবার, ৩০ জুলাই, ২০১৮ আসামে প্রকাশিত জাতীয় নাগরিক তালিকা -র খসড়া বিষয়ে দিল্লী লোকসভা দফায় দফায় উত্তাল হয়ে ওঠে। লোকসভায় সংসদ সদস্যদের অনেকে জানান যে বহু প্রাক্তন সরকারি কর্মচারী, মন্ত্রী, অধ্যাপক, এমনকি উপাচার্যের নাম বাদ গেছে। বহু সাধারণ এবং গরিব মানুষ রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়বেন এই আশংকা করা হচ্ছে। এর মধ্যে আছেন এমন অনেকে যারা ৪/৫ পুরুষ ধরে আসামবাসী।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে বিহার থেকে অসমে যাওয়া অনেকের নামও তালিকায় রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। অসম থেকে এদের তাড়ানো হলে বাংলার উপরে এবং বাংলাদেশের উপরে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে। তিনি বললেন এর ফলে ৪০ লক্ষ লোক ‘দেশের মধ্যে থেকেই উদ্বাস্তু হয়ে গেলেন’।
সারা দেশ জুড়ে মানবাধিকারকর্মী ও বুদ্ধিজীবীরা মনে করছেন সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। আসাম সরকারের নেতারা জানাচ্ছেন যে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানুষেরা কোনো নাগরিক অধিকার ও পরিষেবা যেমন বিদ্যুৎ সরবরাহ পাবেন না। এ নিয়ে তথ্যের অধিকার আইনে অন্য কোন নাগরিক মামলাও করতে পারবেন না।
কবি শঙ্খ ঘোষ জানিয়েছেন, অনেক দিনের আশংকা শেষ পর্যন্ত সত্যি হতে চলল, দেশকে এক গভীর সংকটের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। বিরোধীরা জানিয়েছেন পরিকল্পিতভাবে অহোম ও সংখ্যাগুরু ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে এক ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করছে যা দেশের অখন্ডতার জন্য বিপজ্জনক। ৪০ লাখ ৭ হাজার ৭১৭ জন মানুষকে বাদ দিয়ে গোটা রাজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করা হল। বিজেপি নেতারা এর উত্তরে বলেছেন ভারত কোনো ধর্মশালা নয়।
আসামের ৩৩টি জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আসামে এবং সন্নিহিত রাজ্যগুলিতে ২৩০০০ আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য।