শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর এশিয়া কাপের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচ বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচ দুবাইতে অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে ক্রিকেট বিশ্বে ভারত বাংলাদেশের ক্রিকেট ম্যাচকে পাক ভারত ক্রিকেট ম্যাচ থেকে হাই ভোল্টেজ ম্যাচ হিসেবে গণ্য করা হয়।
এশিয়া কাপে এর আগে দশবার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। এর মধ্যে নয়বারই জয় পেয়েছে টিম ইন্ডিয়া। ভারতকে একবার হারানোর সুখস্মৃতি রয়েছে বাংলাদেশের। ২০১২ সালের আসরে নিজেদের মাটিতে ভারতকে পরাজিত করে টাইগাররা। ওয়ানডেতেও জয়ের দিক দিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ভারত। ৩৩ ম্যাচে ২৭টি জয় ও ৫টি ম্যাচে হারে টিম ইন্ডিয়া। তাই কাগজ-কলমের হিসেবে জয়ের দিক দিয়ে বেশ এগিয়ে ভারতই। কিন্তু সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে দু’দল সমান অবস্থানে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জয় করেছে বাংলাদেশ। ওই স্বাদ নিয়ে এবারের এশিয়া কাপ শুরু করে টাইগাররা। এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে কিপার মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরিতে ১৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করে ২৬১ রান করে টাইগাররা। জবাবে ১২৪ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলংকা। পরবর্তীতে আফগানিস্তানের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় লংকানরা। ফলে বাংলাদেশকে নিয়ে সুপার ফোরে জায়গা করে নেয় আফগানরা।
এশিয়া কাপের আগে ইংল্যান্ড সফর করেছে ভারত। তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ হারে ভারত। তাই ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ হারের স্বাদ নিয়ে এশিয়া কাপ শুরু করে টিম ইন্ডিয়া। অবশ্য এশিয়া কাপে গ্রুপ পর্বের দু’ম্যাচেই জয়ের স্বাদ পেয়েছে তারা। হংকং-এর বিপক্ষে ২৬ রানের জয়ের পর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে উড়িয়ে দেয় ভারত। পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে ব্যবধানে হারায় রোহিত শর্মার দল। তবে হংকং-এর বিপক্ষে জিততে বেশ বেগ পেতে হেয়েছে ভারতের। তারপরও বোলারদের নৈপুণ্যে বড় লজ্জা থেকে রক্ষা পায় টিম ইন্ডিয়া। তবে গ্রুপ পর্বে দু’টি জয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে রেখেছে ভারতের।
বাংলাদেশ দল যেমন ইঞ্জুরীর কবলে পড়েছে তেমনি ইন্ডিয়ান দলেও রয়েছে ইঞ্জুরীর ছোঁয়া। বাংলাদেশ দলে তামিম ইকবালের হাতের কব্জির ইঞ্জুরীতে এশিয়া কাপ যেমন শেষ হয়ে গেছে আবার কিপার ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমও রয়েছেন পাঁজরের হাড়ের সাময়িক ইঞ্জুরীতে। খেলেননি আফগানদের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ২য় ম্যাচ। খেলেননি তেমনি ইন্ডিয়ান দলের অলরাউন্ডার হার্ডিক পান্ডিয়াও শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে মারাত্মক ইঞ্জুরির কবলে পড়ে এশিয়া কাপ থেকে বাদ পড়ে যান।
বাংলাদেশ দল
মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ মিথুন, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম, আরিফুল হক, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদি হাসান মিরাজ, নাজমুল ইসলাম অপু, রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, আবু হায়দার রনি, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক।
ভারত দল
রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), শিখর ধাওয়ান, লোকেশ রাহুল, আম্বাতি রাইদু, মনীষ পান্ডিয়া, কেদার যাদব, মহেন্দ্র সিং ধোনি, দিনেশ কার্তিক, কুলদীপ যাদব, হার্ডিক পান্ডিয়া, যুজবেন্দ্রা চাহাল, অক্ষর প্যাটেল, ভুবনেশ্বর কুমার, জসপ্রিত বুমরাহ, শারদুল ঠাকুর ও খলিল আহমেদ।
বাঙালীয়ানা/আরসি/এসএল